চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

Printed Edition

গালফ নিউজ

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বিমান সংস্থা মাহান এয়ারকে পণ্য বিক্রি, লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা দেয়ার অভিযোগে চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ।

শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক জে হিলোটিন নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত আইআরজিসির হয়ে অস্ত্র ও কর্মী পরিবহনের অভিযোগে অভিযুক্ত মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সানহাই শহরের কিছু প্রতিষ্ঠান এবং একটি রুশ এয়ার কার্গো সংস্থাসহ বেশ কিছু জেনারেল সেলস এজেন্টকে নিশানা করা হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, আইআরজিসি বা মাহান এয়ারকে আর্থিক ও লজিস্টিক সুবিধা দেয়া যেকোনো পক্ষ প্রকৃতপক্ষে একটি সন্ত্রাসী সংস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। এদের মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ ও বিমান হামলার মাধ্যমে সামরিক চাপও বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে চিহ্নিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের অধিকার রুদ্ধ হবে এবং কোনো মার্কিন নাগরিকের জন্য তাদের সঙ্গে লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া তৃতীয় দেশের কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান এদের সাথে বাণিজ্য চালিয়ে গেলে তারা সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে। বেসামরিক এয়ারলাইন হিসেবে দাবি করলেও মাহান এয়ারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকায় পৌঁছে দেয়ার অভিযোগ তুলে আসছে ওয়াশিংটন। তবে এয়ারলাইনটি এই অভিযোগকে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতিমালার অংশ হিসেবেই এই নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা নিয়ে ইরান সরকার কিংবা অন্য পক্ষগুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মূলত আইআরজিসি সাধারণ সামরিক কর্মকাণ্ডের বাইরে একটি সুবিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।