দাঁতের খয়েরি দাগ দূর করতে করণীয়

Printed Edition

রোজ নিয়ম করে দুই বেলা ব্রাশ করছেন, দামি টুথপেস্টও ব্যবহার করছেন তবুও আয়নার সামনে দাঁড়ালেই মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে? দাঁতের নিচে, বিশেষ করে মাড়ির কোল ঘেঁষে জমেছে জেদি খয়েরি বা কালচে ছোপ? এই চেহারার দাঁত দিয়ে সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে অনেকেই বিব্রত বোধ করেন।

এটা কেন হয়?

আগে জেনে নেই এটা কেন হয়। চিকিৎসকদের ভাষায় একে বলা হয় ‘টারটার’ বা ‘ডেন্টাল ক্যালকুলাস’। আসলে মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া লালা ও খাবারের কণার সাথে মিশে প্রথমে ‘প্লাক’ তৈরি করে, যা ঠিকমতো পরিষ্কার না হলে সময়ের সাথে সাথে পাথরের মতো শক্ত হয়ে খয়েরি দাগে পরিণত হয়।

কি করবেন?

অনেকেই ভাবেন, এই দাগ একবার বসলে ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে ‘স্কেলিং’ করানো ছাড়া গতি নেই। তবে ডেন্টিস্টের চেম্বারে ছোটছুটি করার আগে, রান্নাঘরের সাধারণ কিছু উপাদান দিয়েই কিন্তু এই জেদি দাগ উধাও করা সম্ভব। জেনে নিন দাঁতের গোড়ার খয়েরি দাগ দূর করার ৫টি জাদুকরী তথ্য।

১. বেকিং সোডা ও নুন : দাঁতের প্লাক ও পাথর দূর করতে বেকিং সোডা যুগ যুগ ধরে অত্যন্ত কার্যকরী এক উপাদান। এটি একটি প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে। ব্যবহার পদ্ধতি : এক চা চামচ বেকিং সোডার সাথে সামান্য এক চিমটে নুন মিশিয়ে নিন। এবার টুথব্রাশটি সামান্য ভিজিয়ে ওই মিশ্রণে ডুবিয়ে নিন এবং আলতো হাতে দাঁতের খয়েরি দাগ লাগা অংশে ব্রাশ করুন। সপ্তাহে ২ বারের বেশি এটি করবেন না, কারণ অতিরিক্ত ব্যবহারে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

২. কমলার খোসা : শুনতে অবাক লাগলেও কমলার খোসায় থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান দাঁতের খয়েরি দাগ ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে দারুণ কাজ করে। ব্যবহার পদ্ধতি : কমলার খোসার ভেতরের সাদা অংশটি সরাসরি দাঁতের গোড়ায় ও খয়েরি দাগের ওপর ৫ মিনিট ভালো করে ঘষুন। তারপর পানি দিয়ে কুলকুচি করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩-৪ দিন এটি করলে দাঁতের দাগ তো কমবেই, সাথে মুখের দুর্গন্ধও দূর হবে।

৩. অয়েল পুলিং : মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং দাঁতের গোড়ার ময়লা আলগা করতে প্রাচীন আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি ‘অয়েল পুলিং’ অত্যন্ত জনপ্রিয়। ব্যবহার পদ্ধতি : সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করার আগে এক চামচ খাঁটি নারকেল তেল মুখে নিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ধরে মুখের ভেতর ভালো করে কুলকুচি করুন (গিলে ফেলবেন না)। এরপর তেলটি ফেলে দিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ব্রাশ করে নিন। নারকেল তেলের লরিক অ্যাসিড দাঁতের পাথর জমতে দেয় না।

৪. অ্যালোভেরা এবং গ্লিসারিন স্ক্রাব : অ্যালোভেরা দাঁত ও মাড়ির যেকোনো ইনফেকশন দূর করার পাশাপাশি টারটার পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ব্যবহার পদ্ধতি : আধকাপ পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা, এক চামচ অ্যালোভেরা জেল, ৪ চামচ ভেজিটেবল গ্লিসারিন এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি দিয়ে সপ্তাহে দু-তিন দিন দাঁত মাজলে খয়েরি দাগ দ্রুত হালকা হতে শুরু করে।

৫. সাদা তিল : তিল ডেন্টাল স্ক্রাব হিসেবে চমৎকার কাজ করে। এটি দাঁতকে পলিশ করে এবং মাড়ির কোনো ক্ষতি ছাড়াই পাথর তুলে আনে। ব্যবহার পদ্ধতি : এক চামচ সাদা তিল মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ চিবিয়ে নিন, তবে গিলে ফেলবেন না। তিল চিবিয়ে মুখে থাকা অবস্থাতেই একটি শুকনো টুথব্রাশ দিয়ে দাঁতের গোড়ার খয়েরি অংশগুলোতে ভালো করে স্ক্রাব করুন। ২-৩ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

দাঁতের পাথর যদি অতিরিক্ত শক্ত হয়ে মাড়িতে ব্যথা বা রক্তপাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেয়া উচিত। ইন্টারনেট।