গ্রুপ পর্বে খেলতে না পারলে খারাপই লাগবে : ইব্রাহিম

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দলে গোলরক্ষকসহ আট বিদেশী। গোল করার মূল যে দায়িত্ব সেখানেও দুই গাম্বিয়ান স্ট্রাইকার। এ ছাড়া জাপানি ও নেপালি খেলোয়াড়ও আছেন। তবে তাদের টপকে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের এই ম্যাচে মুরাসকে হারানো নায়ক হয়ে গেলেন ইব্রাহিম। তার গোলেই ফর্টিসের ইতিহাস গড়ে এখন এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে। অথচ এই ইব্রাহিমকে ফর্টিস লোনে এক এই ম্যাচের জন্যই নিয়েছিল ঢাকা আবাহনী থেকে। তার সাথে এক মাসের চুক্তি। এখন তাকে ফিরে যেতে হবে আকাশি নীল শিবিরে। যার অর্থ তার খেলা হবে না এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে। তাই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের সাবেক এই অ্যাটকিং মিডফিল্ডার জানান, ফর্টিসকে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে নিতে পেরেছি। এতে আমি খুবই খুশি। তবে খারাপ লাগবে যখন আমি এই দলের হয়ে চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে খেলতে পারব না।’

জাতীয় দলের হয়ে একাধিক গোল আছে। এখন পর্যন্ত লাল-সবুজ জার্সিতে তার গোল চারটি। তবে কাল তার গোলে মাইলফলক অতিক্রম। তবে কোনোভাবেই মুরাসের বিপক্ষে করা গোলকে নিজের ক্যারিয়ারে সেরা গোল বললেন না ্ইব্রাহিম। তার মতে অবশ্যই জাতীয় দলের হয়ে গোল আমার স্মরণীয়। আর এই ম্যাচে গোল করে ফর্টিসকে এগিয়ে দিলাম এ জন্য ভালো লাগছে।’

ক্যারিয়ারের শুরুতে মোহামেডানের হয়ে ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেছিলেন। এরপর জাতীয় দলের হয়ে গোল। তবে এখন তিনি জাতীয় দলের বাইরে। জানান, ‘আমি আশা করি জাতীয় দলের কোচ আমাকে ফের জাতীয় দলে ডাকবেন এই ম্যাচের পর। কোচ প্রথম যখন দেখেছিলেন তখন আমাকে সেভাবে চিনতে পারেননি। আমিও সেভাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারিনি।’ এরপর যোগ করেন, ‘আমি এখানে কিন্তু ফর্টিসের হয়ে খেলিনি। খেলেছি জাতীয় দল মনে মনে করেই।’ তরে মতে, আমাকে যখন ফর্টিস কোচ এই ম্যাচ খেলার জন্য ডাকে তখন আমি অবাকই হয়েছিলাম। এরপর দায়িত্ব নিয়েই ম্যাচটি খেলেছি।

আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের লাইসেন্স না থাকায় অপ্রত্যাশিতভাবেই এএফসির আসরে খেলার সুযোগ পাওয়া ফর্টিসের। চলছিল দল বদল। তাই অন্য খেলোয়াড় পাওয়া যাচ্ছিল না। কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার জানান, ‘আমরা চেয়েছিলাম বসুন্ধরা কিংসের ফাহিম ও রাকিবকে। কিন্তু তাদের না পেয়ে আবাহনী থেকে ডিফেন্ডার শাকিল ও ফরোয়ার্ড ইব্রাহিমকে নিয়েছি। শাকিলকে না খেলালেও ইব্রাহিম খেলেছে এবং দলকে জিতিয়েছে।’ জাতীয় দলের সাবেক এই সহকারী কোচ জানান, ‘বসুন্ধরার দুই ফুটবলার না পেয়ে আমি আবাহনীর সেই খেলোয়াড়দের খুঁজছিলাম যারা গত বছর মুরাসের বিপক্ষ খেলেছিল। আমার হাতে বিকল্প ছিল আল আমিন ও ইব্রাহিম। এখানে আমি ইব্রাহিমকে বাছাই করেছি তার অভিজ্ঞতার জন্য। সেই অভিজ্ঞতা দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায়ে গোল করেছে। অন্যরা হলে তাড়াহুড়া করে গোল মিস করত।’

ম্যাচে হারের জন্য মুরাসের সহকারী কোচ খেলোয়াড়দের সমালোচনা করে বলেন, তাদের বলেছিলাম দ্রুতগতির ম্যাচ খেলতে। কিন্তু তারা ধীর লয়ে খেলে হেরেছে। এ ছাড়া গরম আবহওয়াও আমাদের ভীষণ সমস্যা করেছিল। সাথে পেনাল্টি মিসও করেছি।’ সে সাথে তিনি ফর্টিসের প্রশংসা করেন।

ফর্টিস কোচ কায়সারও জানান, আমরা আমাদের হোম অ্যাডভানটেজ নিয়েছি। বেলা ৩টায় খেলা দিয়েছি। সেই কারণেই আমাদের জয়টা ১-০তে। এই জয়ে আমরা এখন গ্রুপ পর্বে চলে গিয়েছি। এখন পরবর্তী পরিকল্পনা গ্রুপ পর্ব নিয়ে।

এই ম্যাচে জন্য দুই জাপানিকে খেলিয়েছে ফর্টিস। তাদের সাথে এক মাসের চুক্তি হলেও এখন তাদেরকে পুরো সিজনের জন্যই চুক্তি বদ্ধ করেছে ফর্টিস। জানান ক্লাব সভাপতি শাহীন হাসান।