জনগণের ভোগান্তি নিরসনেই লং মার্চ করবে এনসিপি : আখতার হোসেন

Printed Edition
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি : নয়া দিগন্ত
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণের ভোগান্তি নিরসন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চে অংশ নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আখতার হোসেন বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চে এনসিপির অংশগ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠক হয়েছে। সেখানে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সাথে আলোচনা করে কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনভোগান্তি নিরসন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা এ লং মার্চে উপস্থিত হচ্ছি।

সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। একই সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, জনগণের বিভিন্ন দাবি নিয়ে তারা সংসদে কথা বলছেন। তবে এসব দাবি আমলে নেয়ার মতো মানসিকতা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো দেখা যায়নি। সরকার ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কয়েকদফা বাড়ানো হয়েছে। এর পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃষকরা বর্তমানে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। চলমান আমন মৌসুমে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাস সঙ্কটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আখতার হোসেন। তার ভাষ্য, গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষও রান্নাবান্নাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়েছেন। সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির এ নেতা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও রাহাজানির ঘটনা ঘটছে। সংসদ ভবনের আশপাশ থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। চাঁদাবাজির ঘটনা এমন পর্যায়ে গেছে যে চারণভূমিতে মহিষ চরাতেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য উদ্বেগজনক।

আখতার হোসেন অভিযোগ করেন ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের মানুষকে গণহত্যার মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ওই সময় সঙ্ঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ-সংক্রান্ত আইন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শক্তিশালী আইন প্রণয়নের কথা বলা হলেও প্রস্তাবিত আইনে গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের যথাযথভাবে বিচারের আওতায় আনার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কটসহ বিভিন্ন সমস্যায় জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সব বিষয় জনগণের কাছে তুলে ধরতেই ১১ দলীয় ঐক্য মাঠে নামছে। আমরা জনগণের কাছে যাবো। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি প্রান্তে গিয়ে জনগণের ভোগান্তির কথা দেশের গণমাধ্যম ও সরকারের কাছে তুলে ধরব।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিভাগীয় সমাবেশ করা হয়েছে। এখন লং মার্চের উদ্দেশে বিভিন্ন বিভাগ থেকে যাত্রা শুরু করা হচ্ছে।