ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বিবিসি বাংলায় নিজের সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদন মিথ্যা দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ শাখার আলোচিত সদস্যসচিব মাহদী হাসান। তিনি বলেন, ‘এই মিথ্যা প্রচারের ফলে আমার পরিবার পেশাগত ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মাহদী হাসান বলেন, ‘বিবিসি বাংলার উক্ত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন আমার ও পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিধ্বস্ত করেছে। এই মিথ্যা প্রচারের ফলে আমার পরিবার পেশাগত ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর আমি প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে দিন পার করছি।’
তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে অসংখ্যবার হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমেও আমার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতির অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এতে আমার পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম মানহানি হয়েছে।’
কী বলা হয়েছে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে?
গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিবিসি বাংলায় ‘মাহদী হাসানের সাথে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজনের বরাতে বলা হয়, ‘দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসে একটি বেসরকারি সংস্থার দফতরে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রথম দেখা যায় মাহদী হাসানকে। তার পাশে এক নারীও বসেছিলেন। ওই বেসরকারি সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের হয়ে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে।’
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘জানা গেছে যে মি. হাসান এবং তার পাশে বসা নারী পর্তুগালের ভিসার জন্য আবেদন করতে গিয়েছিলেন। ... মি. হাসান এবং তার সাথে আসা এক নারী নয়াদিল্লি রেলস্টেশনের কাছাকাছি পাহাড়গঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন বলে বিবিসি বাংলা জানতে পেরেছে।’
মাহদী হাসানের অভিযোগ, ‘ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থানকালে আমার অজান্তে ধারণ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ‘প্রোপাগান্ডা’ চালায়। পরবর্তীতে বিবিসি বাংলা সেই প্রোপাগান্ডা যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকাশ করে এবং আমার কোনো বক্তব্য না নিয়েই একাধিক মিথ্যা তথ্য প্রতিবেদনে যুক্ত করে।’
‘অজ্ঞাতনামা গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আমার বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে অথচ এ বিষয়ে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই,’ বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই নেতা।
বিবিসি বাংলাকে আইনি নোটিশ
মাহদী হাসান জানান, গত ৮ মার্চ বিবিসি বাংলাকে আইনি নোটিশ পাঠান। ‘তারা (বিবিসি বাংলা) কোনো যথাযথ পদক্ষেপ না নিয়ে বরং প্রতিবেদনটি আরো বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করেছে। ফলে আমি ১৬ মার্চ মানহানির মামলা করতে বাধ্য হই।’
আইনি নোটিশে বিবিসি বাংলার বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী হাসান বলেন, ‘আমি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছি। একই সাথে দেশের মানুষের কাছেও এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। ভবিষ্যতে আমার বা আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে এর দায় সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে।’



