এবার ব্রাজিলকে ছোঁয়ার পালা আর্জেন্টিনার

Printed Edition

রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ী দেশ ব্রাজিল। সেলেকাওদের এই অর্জন এখন পর্যন্ত কোনো দেশ ছুঁতে পারেনি। চারবার করে বিশ্বকাপ জিতে এর পরেই অবস্থান ইতালি ও জার্মানির। এই রেসে তৃতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা। তাদের ভাণ্ডারে তৃতীয় শিরোপা। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতোই আরেক ল্যাটিন আমেরিকান দেশ উরুগুয়ে। তাদের আছে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব। এ ছাড়া ইউরোপের দেশ ফ্রান্স দুইবার বিশ্ব ফুটবলের আনুষ্ঠানিক সেরার স্বীকৃতি পেয়েছে। ফুটবলে আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল। তবে ব্রাজিলের পাঁচ বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করতে আরো অপেক্ষা করতে হবে আর্জেন্টিনাকে। অবশ্য একটি ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশটির অর্জনের পাশে থাকা সম্ভব। আর তা হলো টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতা। কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনা ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলেই ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিলের সমকক্ষ হতে পারবে। ইতালিও পরপর দুইবার ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল। তবে তা ছিল এক মহাদেশে হওয়া বিশ্বকাপ। আর ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে। এখন লিওনেল মেসিদের পালা পরপর দুই মহাদেশে বিশ্বকাপ জয় করার। ২০২২ সালে এশিয়া মহাদেশের দেশ কাতারে জয় করেছিল বিশ্বকাপ। এবার উত্তর আমেরিকায় তারা ফাইনালে স্পেনকে হারালে দুই ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশে টানা দুই বিশ্বকাপ জেতা হবে।

ব্রাজিল অবশ্য তাদের পাঁচ বিশ্বকাপই জিতেছে চার ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশে। ১৯৫৮ সালে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় ইউরোপের দেশ সুইডেনের মাঠে। ১৯৬২তে নিজ মহাদেশের দেশ চিলিতে। ১৯৭০ সালে পেলেদের তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে হাত ছোয়ানো মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে। একই মহাদেশে ১৯৯৪ সালে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব উত্তর আমেরিকার দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।

ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার পর্ব শেষ করে প্রথমবারের মতো এশিয়ায় বিশ্বকাপ হয় ২০০২ সালে। এশিয়ার সেই বিশ্বকাপও দখলে গেছে ব্রাজিলের। অবশ্য এরপর আর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি তাদের। এমনকি ফাইনালেও খেলতে পারেনি। পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের পর তাদের সেরা অর্জন নিজ মাঠে ২০১৪ সালে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া। অবশ্য সেই সেমির স্মৃতি কোনোদিনই মনে রাখতে চাইবে না ফুটবলের মহাপাগল ব্রাজিলিয়ানরা। কারণ জার্মানির কাছে তাদের হারতে হয়েছিল বিস্ময়করভাবে ১-৭ গোলে।

আরেকটি বিষয়, ব্রাজিল দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে। তা ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে। এর মধ্যে দুইবারই তারা চ্যাম্পিয়ন। প্রথম দল হিসেবে টানা তিন বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল পশ্চিম জার্মানি। সেই বিশ্বকাপগুলো ছিল ১৯৮২, ১৯৮৬ ও ১৯৯০তে। তারাও ব্রাজিলের মতো পরপর তিন ফাইনাল থেকে দুইবার বিশ্বকাপ হাতে নিয়েছিল।

এবার আর্জেন্টিনা সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় নিজ মহাদেশ দক্ষিণ আমেরিকায় নিজ মাঠে। এরপর উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে ১৯৮৬ সালে। তবে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সময় তারা ব্রাজিলের সমকক্ষতা অর্জন করেছে। তা হলো ব্রাজিল যেমন এশিয়ার মাঠে বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০০২ সালে। আর্জেন্টিনাও ২০২২ সালে কাতারের মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

এখন আর্জেন্টিনা যদি ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের ব্যর্থতাকে (দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায়) পেছনে ফেলে এবার স্পেনকে হারিয়ে ফের বিশ্বকাপ জিততে পারে, তাহলে ধরে ফেলবে ইতালি ও জার্মানির চার বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্যকে। সেই সাথে পঞ্চম বিশ্বকাপ জিততে ব্রাজিলের রেকর্ডে ভাগ বসাতে গরম নিশ্বাস ফেলবে- সেলেকাওদের ঘাড়ের ওপর।