নিজস্ব প্রতিবেদক
সতর্ক থাকুন, আপনার কাছে যেসব খাবার খুবই মজাদার, মুখোরোচক সেগুলোতে কিন্তু পেট্রোলিয়ামজাত রঙ রয়েছে। উৎপাদকরা খাবারকে অনেক দিন সংরক্ষণ করতে, পচে না যায় এবং সুন্দর ও চকচকে করে ভোক্তাকে আকর্ষণ করতে পেট্রোলিয়াম রঙ ব্যবহার করছেন। তারা অবশ্য খাবার প্যাকেট কী কী ব্যবহার করছে তা বলে দিচ্ছে কিন্তু ক্রেতা বা ভোক্তা বিশেষ করে শিশুদের এসব দেখার সময়ই নেই। আবার অনেকে দেখে থাকলেও এগুলো অনেকটা কোডিং আকারে দেয়া হয় যেগুলো মানে ভোক্তারা বুঝতেই পারেন না। শুধু চকচকে রাখতেই নয়, প্যাকেটজাত খাবারের গঠন অক্ষুণœ রাখতেও পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
এই প্যাকেটজাত খাবারগুলোর মধ্যে আল্ট্রা প্রসেসড স্ন্যাক্স ও ফ্লেভারযুক্ত আলুর চিপস অন্যতম। এই চিপসে প্রায়ই কৃত্রিম (আর্টিফিশিয়াল) রঞ্জক টিবিএইচকিউ (ট্রার্শিয়ারি বিউটাইলহাইড্রোকুইনোন) থাকে। এই টিবিএইচকিউ উদ্ভিজ্জ তেলকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষার জন্য উৎপাদকরা ব্যবহার করেন। এটা পেট্রোলিয়ামজাত প্রেজারভেটিভ। চিজ কার্লস ও পাফসের মধ্যেও থাকে একই রকম রঙ। পনির বা চিজের গাঢ় রঙ অনুকরণ করতে কৃত্রিম হলুদ ও কমলা রঙ ব্যবহার করা হয়। ক্র্যাকার্সের চর্বি যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে ক্যাকার্সে টিবিএইচকিউ ব্যবহার করা হয়। ক্যান্ডি ও মিষ্টিকে উজ্জ্বল করতে রেড ৪০, ইয়েলো ৫ এবং ইয়েলো ৬ নামক কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করা হয়। এই কৃত্রিম লাল ও হলুদ কালারও আসে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সংশ্লেষ (সিন্থেটিক) থেকে। সব বয়সী মানুষ বিশেষ করে শিশুদের জন্য খুবই জনপ্রিয় একটি চিবানো মিষ্টির নাম চুইংগাম। দীর্ঘক্ষণ মুখে রসালো ভাব ধরে রাখতে এবং গলা শুকানো থেকে অবস্থার দূর করতে অনেকেই চুইংগাম ব্যবহার করে। জনপ্রিয় চুইংগামে ব্যবহার করা হয় ‘গামবেস’। এই গামবেস পেট্রোলিয়াম মোম এবং পলিইথিলিনের মতো সিন্থেটিক রাবার ও প্লাস্টিক থেকে তৈরি করা হয়। দোকানে অনেক কেকে ফ্রস্টিং (তুষার কণার মতো দেখতে) করা হয়। এটা করা হয় তাকের ওপর যেন কেকটি নরম থাকে এবং দেখতে সুন্দর লাগে। এই ফ্রস্টিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় রঙ এবং রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ। এই কালারও আসে পেট্রোলিয়ামজাত উপাদান থেকে। কিছু ইন্সট্যান্ট, ফ্লেভারযুক্ত ওটমিলের প্যাকেটে কৃত্রিম ফ্লেভার ও রঙ ব্যবহার করা হয়। উজ্জ্বল রঙের সোডা ড্রিঙ্কস ও এনার্জি ড্রিংকস ও ইলেকট্রোলাই স্পোর্টস ড্রিংক্সও হয় পেট্রোলিয়াম ডাই (রঙ) থেকে। সালাদ ড্রেসিংগুলো থেকে চর্বি অপসারণের পর প্রাকৃতিক রঙের ঘাটতি পূরণের জন্য যে কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করা হয় সেটাও আসে পেট্রোলিয়ামজাত উপাদান থেকে। মারাস্কিনো চেরিকে রাসায়নিক ব্লিচ দেয়ার পর সেগুলোতে উচ্চ মাত্রার রেড-৪০ দিয়ে রঞ্জিত করা হয়। ফলে ওই চেরিগুলো আরো বেশি উজ্জ্বল রঙ ধারণ করে বলে মানুষ সেগুলো বেশি করে কিনে নেয়।
কৃত্রিম রঙ এড়িয়ে চলতে চাইলে পুষ্টির লেবেলে লাল-৪০, হলুদ-৫, হলুদ-৬, নীল-১, নীল-২ দেখলে তা এড়িয়ে চলুন অর্থাৎ এসব রঙ পেট্রেলিয়াম থেকে প্রাপ্ত। এ ছাড়া সংরক্ষক টিবিএইচকিউ, বিএইচএ (বিউটাইলেটেড হাইড্রোক্সিয়ানিসোল) এবং বিএইচটি (বিউটাইলেটেড হাইড্রোক্সিটলুইন)। এগুলোর মূল উপাদান খনিজ তেল থেকে বা প্যারাফিস মোম থেকে। এগুলো চকচক করতে ব্যবহার করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে।



