নিজস্ব প্রতিবেক
২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য ব্যাকঅ্যাপ আবাসন ১% বহাল রাখতে সৌদি সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
গতকাল রাজধানীর গুলশানে সৌদি দূতাবাসে বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি এ অনুরোধ জানান।
২০২৭ সালের হজে ব্যাকঅ্যাপ আবাসন ২% নির্ধারণ করেছে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়। এতে হজের খরচ বাড়বে। এ কারণে বাংলাদেশের জন্য ব্যাকঅ্যাপ আবাসন ২০২৬ সালের হজের মতো ১% বহাল রাখার অনুরোধ করেন ধর্মমন্ত্রী।
সৌদি রাষ্ট্রদূত জানান, এ সংক্রান্ত ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি আধাসরকারি পত্র তিনি গত রোববার হাতে পেয়েছেন এবং তা সুপারিশসহ সৌদি সরকারকে পাঠিয়েছেন। তিনি এ বছর বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় যেকোনো বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ত্বরিত পদক্ষেপের জন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত।
উল্লেখ্য, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ আধাসরকারি পত্রে ক্যাটারিং ঐচ্ছিক রাখা এবং মিনা-আরাফায় সার্ভিস প্যাকেজ ‘ডি’ এর মূল্যমানের অনুরূপ সার্ভিস প্যাকেজ-৩ এর সেবামূল্য নির্ধারণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
মন্ত্রী এ বছর বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতের অসামান্য ভূমিকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। একইসাথে সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনা সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মসৃণ করার জন্য সৌদি সরকারকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আরো মজবুত ও সুসংহত করাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে ধর্মমন্ত্রী সৌদি দূতাবাসে পৌঁছালে রাষ্ট্রদূত তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ বৈঠকে দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী বছরের হজে অংশ নিতে অনুমতি পেল ৩৫৭ এজেন্সি
আগামী বছরের (২০২৭) হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রথম পর্যায়ে ৩৫৭টি হজ এজেন্সিকে শর্তসাপেক্ষে প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছে সরকার।
গত রোববার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এজেন্সিগুলোর প্রাথমিক যোগ্যতার তালিকা প্রকাশ করে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ দিকে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোনো এজেন্সি যৌক্তিক কারণ ছাড়া ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রী নিবন্ধন (প্রাক-নিবন্ধন নয়) সম্পন্ন না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হজযাত্রী নিবন্ধনের আগে তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রুপ (অ্যালায়েন্স) গঠন করতে হবে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম হজযাত্রীর কোটা কোনো এজেন্সি এককভাবে বা সমন্বয়ের মাধ্যমে পূরণ করতে পারলে সেই এজেন্সি বা লিড এজেন্সি হজযাত্রী পাঠানোর অনুমতি পাবে।
এজেন্সিগুলোকে ই-হজ সিস্টেমে সরকার ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এই প্যাকেজই হজযাত্রী ও এজেন্সির মধ্যকার চুক্তিপত্র হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে সৌদি আরবে প্রদেয় সেবা, অবস্থানকাল, হোটেলের দূরত্ব এবং প্যাকেজের মূল্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি এজেন্সিকে অন্তত ৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হবে। এ সংখ্যা পূরণ না হলে লিড এজেন্সির অধীন অন্য কোনো এজেন্সিতে হজযাত্রী স্থানান্তরের (ট্রান্সফার) মাধ্যমে তাদের হজ পালনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য একজন আরবি ভাষায় দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন এবং হজ পরিচালনায় অভিজ্ঞ গাইড নিয়োগ দিতে হবে। গাইডের পাসপোর্ট ও হজ-অভিজ্ঞতার তথ্য ই-হজ সিস্টেমে সংযুক্ত করাও বাধ্যতামূলক। মন্ত্রণালয় আরো সতর্ক করে জানিয়েছে, অনিবন্ধিত কাউকে হজযাত্রী হিসেবে সৌদি আরবে পাঠানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই বাতিল করা হবে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাও নেয়া হবে। এ দিকে পরে কোনো এজেন্সি প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্যসহ আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নাম পরবর্তী যোগ্যতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে যোগ্য তালিকায় থাকা কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়নের শর্তে এজেন্সিগুলোকে যোগ্য তালিকায় রাখা হয়েছে। যেসব এজেন্সির লাইসেন্স এর আগে শেষ হবে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি এজেন্সিকে হালনাগাদ হজ লাইসেন্স, ট্রাভেল লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর সনদ জমা দিয়ে ঢাকা হজ অফিসের পরিচালকের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, যোগ্য তালিকাভুক্ত এজেন্সি ছাড়া অন্য সব এজেন্সির প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে। পরে কোনো এজেন্সি যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর সুযোগ দেয়া হবে।



