হলান্ড বনাম হ্যারি

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে এক দিকে থাকছে প্রথমবারের মতো শেষ আটে উঠে ইতিহাস গড়া নরওয়ে এবং অন্য দিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও অতীতের শক্তির বিচারে ইংল্যান্ড স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। মোট ১২টি ম্যাচের মুখোমুখিতে ইংল্যান্ডের জয় ৭টি, নরওয়ের জয় ২টি, ড্র ৩টি। ইংল্যান্ডের বড় জয় ৬-০ গোলে।

নরওয়ে শিবির : শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে নরওয়ে। তবে কোয়ার্টারের আগে তারা বড় দু’টি সঙ্কটে পড়েছে। প্রথমত, দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অসুস্থতায় ভুগছেন। দ্বিতীয়ত, ফ্লোরিডার হোটেলের পাশে তীব্র নির্মাণকাজ, বিভিন্ন ব্যান্ড পার্টির শব্দ ও যানজটের শব্দের কারণে তাদের তড়িঘড়ি করে পুরো হোটেল পরিবর্তন করতে হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।

ইংল্যান্ড শিবির : শেষ ষোলোর থ্রিলারে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। তবে টুখেলের দল রক্ষণভাগ নিয়ে চরম সমস্যায় রয়েছে। মেক্সিকো ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ায় ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে তারকা ডিফেন্ডার মার্ক গুয়েহি ও রিস জেমসের খেলা নিয়েও বড় সংশয় রয়েছে।

আক্রমণভাগ ও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই স্ট্রাইকারের সরাসরি যুদ্ধ, যারা একই সাথে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও একে অপরকে তাড়া করছেন।

আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে) : চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৭টি গোল করে নরওয়ের আক্রমণের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি। তার শেষ ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে টানা ২৭টি গোল করে অবিশ্বাস্য ফর্মে আছেন।

হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড) : থ্রি লায়ন্সদের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হ্যারি কেন, যিনি টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত ৬টি গোল করেছেন এবং চমৎকার ফিনিশিং প্রদর্শন করছেন।

দুই দলের ‘কি প্লেয়ার’ :

নরওয়ে : আক্রমণভাগে আর্লিং হলান্ড এবং মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দলের অধিনায়ক তথা আর্সেনাল তারকা মার্টিন ওডিগার্ড (যিনি বিশ্বকাপে ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন) থাকবেন প্রধান ভূমিকায়।

ইংল্যান্ড : রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহাম (মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোলদাতা) এবং উইংগার বুকায়ো সাকা (৩টি অ্যাসিস্ট) হতে পারেন ম্যাচের ভাগ্যনির্ধারক। এ ছাড়া গোলপোস্টের নিচে জর্দান পিকফোর্ডের সাম্প্রতিক ফর্ম ইংল্যান্ডের বড় শক্তি।