পেলে-আলফাতিনির পর এন্দ্রিক-রায়ান

Printed Edition

কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তির গড়া প্রথম একাদশে ছিলেন না রায়ান ও এন্দ্রিক। আগের ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর বেশ চাপেই ছিলেন ব্রাজিল কোচ। তবে হাইতির বিপক্ষে ম্যাথিউস কুনহার ২টি এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোলে ৩-০ তে জয়। এই গোলগুলোর সব ক’টিই হয়েছে প্রথমার্ধে। এমন ম্যাচে কোচ তো নতুনদের পরীক্ষা করতেই পারেন। নতুনদের সেই সুযোগই দিয়েছেন অ্যানচেলোত্তি। অবশ্য ৩৯ মিনিটে রায়ানকে মাঠে নামানোটা বাধ্য হয়েই। কারণ তখন ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে খেলার মতো অবস্থায় ছিলেন না রাফিনহা। এতে বিশ্বকাপে ডেবু হয় রায়ানের। ৬৩ মিনিটে মাঠে নামেন এনরিখ।

বিশ্বকাপের ম্যাচে দু’জনের এক সাথে মাঠে থাকার পেলে ও আলফাতিনির পাশে চলে এলেন তারা। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় ঘটনা যে, দু’জন অনূর্ধ্ব-২০ বছর বয়সী ফুটবলার একই সাথে মাঠে খেললেন। প্রথম এই ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন পেলে ও আলফাতিনি। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-২০ বছর বয়সী ফুটবলার হিসেবে খেলেছিলেন পেলে ও আলফাতিনি। এবার হাইতির বিপক্ষে ৩৯ মিনিটে রায়ান ও ৬৩ মিনিটে মাঠে নামেন এন্দ্রিক। এন্দ্রিক একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। রায়ানের দু’টি চেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল।

এই ম্যাচে বেশ কিছু উল্লেখ করার মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রথমার্ধেই ২ গোল করেছেন ম্যাথিউস কুনহা। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ম্যাচে বিরতির আগে জোড়া গোল করলেন। ২০১৪ সালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে প্রথম ৪৫ মিনিটে ২ গোল করেছিলেন নেইমার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই স্ট্রাইকার জাতীয় দলে এই প্রথম এক ম্যাচে জোড়া গোল করলেন। এর আগের ২৪ ম্যাচে তার গোল ছিল ১টি। অন্য দিকে ১২তম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের পরপর দুই ম্যাচে গোল পেলেন ভিনিসিয়াস।

হাইতির বিপক্ষে এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপে কনকাকাফ অঞ্চলের দলগুলোর বিপক্ষে অপরাজিতই থাকল ব্রাজিল। এই পর্যন্ত কনফেডারেশন অব সেন্ট্রাল আমেরিকা, ক্যারিবীয়ান অ্যান্ড উত্তর আমেরিকা ফুটবল (কনকাকাকফ)-এর বিপক্ষে ব্রাজিল ১০ ম্যাচ খেলে ৯টিতে জিতেছে। ড্র করেছে একবার।

হাইতি বিপক্ষে এই ৩ গোলের জয় বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার কৃতিত্বও দেখাল ব্রাজিল। তারা জার্মানি করা ২৩৯ গোলকে টপকে এখন ২৪১ গোলের মালিক।