চাঁদা তোলার বৈধতা দিলেন পৌর প্রশাসক!

Printed Edition

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিপত্র থাকা সত্ত্বেও ভোলার লালমোহন পৌরসভার আওতাধীন সড়কে টোল আদায়ের জন্য ইজারা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ লালমোহন পৌরসভাটির নিজস্ব কোনো স্ট্যান্ড বা টার্মিনাল নেই। ফলে টোল আদায়ের বৈধতা নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রশ্ন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জারি করা এক পরিপত্রে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার আলোকে দেশের সব পৌরসভাকে টার্মিনাল ব্যতীত কোনো সড়ক বা মহাসড়ক থেকে টোল আদায় বন্ধের নির্দেশ দেয়। একইসাথে পৌরসভা বিধিমালা অনুযায়ী পৌর কর্তৃপক্ষ নির্মিত টার্মিনাল ছাড়া পার্কিং ফি বা টোল আদায়ের সুযোগ নেই।

সরেজমিন লালমোহন হাসপাতালের সামনে তেরছি পোলের পাশে লালমোহন-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন থেকে টাকা বা টোল আদায়ের দৃশ্য দেখা গেছে। আদায়কারীরা জানান, পৌরসভার কাছ থেকে বৈধ ইজারা নিয়ে তারা টাকা আদায় করছেন।

তাদের ভাষ্য, আমরা পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করে দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা নিয়েছি। পৌরসভা আমাদেরকে ইজারা দিয়েছে বলেই টাকা আদায় করছি। যদি কোনো আইনগত জটিলতা থাকে, তাহলে তার জবাব পৌর কর্তৃপক্ষই দিতে পারবে।

জানা গেছে, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও লালমোহন পৌরসভার নিজস্ব কোনো টার্মিনাল নেই। অথচ ইজারার শর্তে যানবাহন থেকে ফি আদায়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, টার্মিনাল না থাকলে কোন আইনের আওতায় মহাসড়ক সংলগ্ন স্থান ইজারা দেয়া হলো? আদালতের নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা পৌর প্রশাসকের আছে কিনা তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

এ বিষয়ে লালমোহন ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক টোল আদায়ের ইজারা দেয়ার বিষটি তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ছাড়া দরপত্র আহ্বানসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আমার পূর্ববর্তী প্রশাসকের সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। আমার জানামতে, কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে বিষয়টি করা হয়েছে।