ক্রীড়া প্রতিবেদক
হারারে থেকে বুলাওয়ে। ভেনু বদলালেও ভাগ্য বদলায়নি বাংলাদেশের ক্রিকেটের। হারারেতে একমাত্র টেস্টে বাজেভাবে হারের পর একই ভেনুতে জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হেরেছে টাইগাররা। গতকাল বুলাওয়েতে সিরিজের প্রথম টি-২০তে তৌহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ হেরেছে ৩২ রানে। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দুই দল টি-২০তে সবশেষ মুখোমুখি হয়েছে ২০২৪ সালে। দুই বছর পর তারা এই সংস্করণে ফের মুখোমুখি হয়েছিল। প্রথমে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে করে ১৭০ রান। একপর্যায়ে বাংলাদেশ জয়ের সামান্য আশা জাগালেও জয়ের ধারে-কাছে যেতে পারেনি। ১৯ ওভারে সব ক’টি উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানই করতে পারে বাংলাদেশ। তাতে ৩২ রানে হার।
১৭১ রানের লক্ষ্যে নেমে ৪.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৪ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান (১২) ও তানজিদ হাসান তামিম (১৬) দুই অঙ্কের ঘরে রান করলেও স্কোর বড় করতে পারেননি। যার মধ্যে তানজিদ তামিম ৮ বলে ৩ চারে করেন ১৬ রান। সাইফ, তানজিদ তামিম দুই ওপেনারকেই ফিরিয়েছেন রিচার্ড এনগারাভা। দু’টিতেই ক্যাচ ধরেন তাদিওয়ানাশে মারুমানি। আর পারভেজ হোসেন ইমনকে (৫) ফিরিয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি।
দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে নামেন ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি। তিন বছর পর তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন। চতুর্থ উইকেটে ২৯ বলে ৩৯ রানের জুটি গড়েন হৃদয়-ইয়াসির। দশম ওভারের শেষ বলে হৃদয়কে (১৪) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মিল্টন শুম্বা।
হৃদয়ের পর নুরুল হাসান সোহান ফেরেন রানআউট হয়ে। মাত্র ৩ রান করে আউট হয়েছেন সোহান। হৃদয়-সোহানের দ্রুত বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর ১০.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ৭৮ রান। হাল ধরেন শেখ মাহেদী হাসান ও ইয়াসির। ষষ্ঠ উইকেটে তারা গড়েন ৩৭ বলে ৫২ রানের জুটি। ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে মাহেদীকে (১৯) ফেরান ব্লেসিং মুজারাবানি। আগের বলে ফাইন লেগে আউট হতে হতেও বেঁচে গেছেন। সেটি হয়েছে চার। তবে পরের বলে কাভারে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার হাতে তুলে নিয়েছেন।
মাহেদী ফেরার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। ৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯ ওভারে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন ইয়াসির। ৩৮ বলের ইনিংসে ২ চার ও ৩ ছক্কা মারেন তিনি। জিম্বাবুয়ের এনগারাভা-মুজারাবানি নিয়েছেন চারটি করে উইকেট। ম্যাচসেরা হয়েছেন এনগারাভা। ৪ ওভারে ২৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক হৃদয়। জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে করে ১৭০ রান। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করতেই পারতেন নাহিদ রানা। ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে রানা ফিরিয়েছেন শুম্বা ও তাসিঙ্গা মুসিকিউয়াকে। ৮ নম্বরে নামা ব্রাড ইভান্স কাট করতে গেলে মিস করলে সেটা চলে যায় সোহানের হাতে। তবে ইভান্সের ব্যাট অল্পের জন্য স্পর্শ করেনি। ১০ বলে ১৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১৭০/৬ (বেনেট ৪৪, মারুমানি ১৪, মেয়ার্স ২০, রাজা ২০, বার্ল ৩০*, শুম্বা ১১, মুসেকিয়া ০, ইভান্স ১৯*, নাহিদ ৪/২৬, সাইফ উদ্দিন ২/৩৫)।
বাংলাদেশ : ১৯ ওভারে ১৩৮ (সাইফ হাসান ১২, তানজিদ ১৬, পারভেজ ৫, হৃদয় ১৪, ইয়াসির ৫৪, সোহান ৩, মেহেদি ১৯, সাইফ উদ্দিন ১, নাসুম ২, তাসকিন ৪*, নাহিদ ০, এনগারাভা ৪/২৬, মুজারাবানি ৪/১৭, শুম্বা ১/৪)।
ফল : জিম্বাবুয়ে ৩২ রানে জয়ী।
সিরিজ : ১-০ তে এগিয়ে স্বাগতিকরা।



