এস এম আলাউদ্দিন পাবনা
পাবনায় এখন লিচুর ভরা মৌসুম। লিচু বাগানগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে উৎসবমুখর ব্যস্ততা। মালিক, শ্রমিক আর ব্যাপারিদের দম ফেলার ফুসরত নেই। কেউ গাছ থেকে লিচু ভাঙছেন, কেউ পাতা ছাড়িয়ে কার্টনে ভরছেন আবার কেউ সেই কার্টন ট্রাকে তুলে দিচ্ছেন দূর-দূরান্তে পাঠানোর জন্য। জেলাজুড়ে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচুর এই ভরা মৌসুমে এ বছর প্রায় হাজার কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় চাষিদের সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পাবনায় লিচুর অন ইয়ার হওয়ায় গাছে গাছে আশাতীত ফলন হয়েছে। পাবনার বোম্বাই লিচুর কদর দেশজুড়ে। এর আকর্ষণীয় রঙ, মিষ্টি স্বাদ ও টসটসে রসের কারণে সব বয়সী মানুষের কাছেই এটি অত্যন্ত লোভনীয়। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লিচু উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে এখন পাবনার পরিচিতি।
নব্বইয়ের দশক থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে সীমিত আকারে লিচু চাষ শুরু হলেও এখন তা পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। লিচুর এই বাণিজ্যিক চাষে ভাগ্য বদলেছে অনেক প্রান্তিক কৃষকের। তিনবার রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী ওরফে পেঁপে বাদশা জানান, শুরুতে ঈশ্বরদীর জয়নগর, মানিকনগর ও মিরকামারি এলাকায় চাষ হলেও এখন আটঘরিয়া, চাটমোহর ও সদর উপজেলাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এবং পদ্মার চরাঞ্চলে শত শত বিঘা জমিতে বিশাল বড় বড় বাগান গড়ে উঠেছে। অনেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীও এখন এই খাতে পুঁজি বিনিয়োগ করছেন।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় চার হাজার ৭২৩ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ঈশ্বরদীতেই রয়েছে তিন হাজার হেক্টর। এ অঞ্চলের অন্তত ২৫ হাজার মানুষ সরাসরি লিচু চাষের সাথে জড়িত এবং এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে অন্তত দু’টি লিচু গাছ নেই।
লিচুচাষি কেতাব মণ্ডল জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান থেকে প্রতি ১০০ লিচু মানভেদে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভরা মৌসুমে ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় আড়ত গড়ে উঠেছে, যেখানে অসংখ্য নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, এ বছর পাবনায় প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৮০০ থেকে ১০০০ হাজার কোটি টাকা ছুঁতে পারে। তবে চাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণের অভাব এবং বিশেষায়িত কোনো হিমাগার বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র না থাকায় লিচু ব্যাপকভাবে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।



