বিশ্বকে চমকে দিলো কুরাসাওয়ের ইলয়

Printed Edition
১৫টি টার্গেটে বল ঠেকিয়ে দেয়া ম্যাচের নায়ক কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক ইলয় রুম : ইন্টারনেট
১৫টি টার্গেটে বল ঠেকিয়ে দেয়া ম্যাচের নায়ক কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক ইলয় রুম : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

তিন সংখ্যার বিশ্বকাপ ম্যাচ শেষ হয়েছে ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে ৯৯৯তম ম্যাচে ইতিহাস গড়লেন ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ইলয় রুম। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার খেলতে নেমে জার্মানির বিপক্ষে সাত গোল হজম করেছিল জনসংখ্যা ও আয়োতনের দিক থেকে ছোট্ট দেশটি। আগের ম্যাচে সাত গোল হজম করা দলের গোলরক্ষক এবার ইতিহাস গড়লেন ১৫টি সেভ করে। তার বীরোচিত সেভে ইকুয়েডরকে গোলশূন্যভাবে রুখে মেগা আসরে প্রথম পয়েন্ট অর্জনে বিশ্বকে চমক উপহার দিলো দেড় লাখ মানুষের দেশ কুরাসাও। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র করা জয়ের চেয়েও বেশি কিছু দেশটির। স্রেফ একটি পয়েন্ট নয়, এক টুকরো ইতিহাস!

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে বেশ কিছুক্ষণ মাটিতে মাথা নুইয়ে রাখলেন গোলরক্ষক ইলয় রুম। দলের অন্যরা তখন পরস্পরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আনন্দস্তূপ গড়েছে। এক পর্যায়ে তাদেরও খেয়াল হলো রুমের কথা। তারা ছুটে গেলেন গোলরক্ষকের কাছে এবং তাকে ঘিরেই চলতে থাকল উৎসব। ধারাভাষ্যকার তখন চিৎকার করে বলেছেন, ‘ইকুয়েডরকে চমকে দিলো কুরাসাও।’

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ, প্রথম পয়েন্টের স্বাদ পেল বিশ্ব আসরে। ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে যারা ছিল দুইয়ে (আর্জেন্টিনার পরই), যাদেরকে মনে করা হচ্ছিল এই বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’, সেই ইকুয়েডরকে আটকে রাখল তারা। স্রেফ একটি ম্যাচ জয় নয়, শেষ বাঁশির পর বিশ্বজয়ের উল্লাসেই মেতে উঠল তারা। আগের ম্যাচে সাত গোল হজম করা দলটি এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোতেও তাদের বাড়তি কৃতিত্ব দিতেই হবে। তাদের এই সাফল্যের নায়ক রুম। গোলবারে যেন দুর্ভেদ্য এক দুর্গ গড়েছিলেন ৩৭ বছর বয়সী এই কিপার। ১৫টি বল সেভ করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি সেভের রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের টিম হাওয়ার্ডের। তবে একটি জায়গায় এগিয়ে রুম। ২০১৪ আসরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়সহ ১৬টি সেভ করেছিলেন তিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ম্যাচে ১৫টি সেভ করে রেকর্ডটি এখন রুমেরই।

কানসাস সিটিতে ম্যাচের শুরু থেকেই বুক চিতিয়ে দুর্গ রক্ষার লড়াই শুরু হয় রুমের। ম্যাচ শুরুর ৩ মিনিটেই এনার ভ্যালেন্সিয়ার নেয়া একটি শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে চোখ ধাঁধানো দক্ষতায় রুখে দেন রুম। গোলের পরিষ্কার সুযোগ নষ্ট হয় ইকুয়েডরের। সেই থেকে শুরু। ম্যাচজুড়েই একের পর এক সেভ করতে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিভাগের দল মিয়ামি এফসির এই গোলরক্ষক। কাছ থেকে নেয়া অন্তত পাঁচটি হেডও আটকে দিয়েছেন তিনি। ম্যাচে ৭৫ শতাংশ সময় বল দখলে ছিল ইকুয়েডরের। এ সময় নেয়া ২৬টি শটের ১৫টি লক্ষ্যে রাখলেও সংখ্যাগুলোই ঠেকিয়ে কুরাসাওয়ের হয়ে বীরত্বের গল্প লেখেন রুম।