শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়লে তা অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টে ক্রিস্টালের আকারে জমতে শুরু করে, যার জেরে হাড় ও গাঁটে অসহ্য যন্ত্রণা হয়। একে গেঁটে বাত বলে। এই তীব্র কষ্ট থেকে চটজলদি মুক্তি পেতে ওষুধ ও ডায়েটের পাশাপাশি মাত্র ১০ মিনিটের একটি ব্যায়াম দারুণ কাজ করতে পারে।
কিভাবে করবেন
১. যেকোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে প্রথম এক থেকে দুই মিনিট ভালো করে ওয়ার্ম আপ করা অত্যন্ত জরুরি। ওয়ার্ম আপ করলে শরীরের পেশিগুলো নমনীয় হয় এবং জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিগুলোতে লুব্রিকেশনের মাত্রা একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়। এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে পরবর্তী এক্সারসাইজগুলো করা অনেক বেশি সহজ ও আরামদায়ক করে তোলে।
২. ওয়ার্ম আপ শেষ করে পরবর্তী তিন থেকে পাঁচ মিনিট একটু গতি বাড়িয়ে জোরে জোরে হাঁটুন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ব্রিস্ক ওয়াকিং বলা হয়। এভাবে হাঁটলে পা-সহ শরীরের সব পেশি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিমেষেই সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে কিডনি সচল হয় এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড দ্রুত বের করে দিতে সাহায্য করে।
৩. ব্রিস্ক ওয়াক করা শেষ হলে ধীরে ধীরে হাঁটার গতি কমিয়ে এনে পাঁচ থেকে সাত মিনিটের জন্য হালকা স্ট্রেচিং শুরু করুন। দুই হাত ভালোভাবে প্রসারিত করে, হাঁটু সামান্য ভাঁজ করে কিংবা এক পা এক দিকে ছড়িয়ে দিয়ে এই স্ট্রেচিং করা সম্ভব। এটি জয়েন্টের ওপর চাপ কমায় এবং শরীরের নিম্নাংশের শক্ত হয়ে যাওয়া পেশিগুলোকে শিথিল করতে সাহায্য করে।
৪. যেহেতু বাড়তি ইউরিক এসিড সাধারণত পায়ের জয়েন্টে বেশি জমা হয়, তাই এই সময়ে পায়ের বিশেষ ব্যায়ামের ওপর জোর দেয়া প্রয়োজন। স্ট্রেচিংয়ের পর আট থেকে ৯টি স্কোয়াট করলে তা হাঁটুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং পায়ের পেশি মজবুত করতে দারুণ সাহায্য করে। প্রথম দিকে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য দেয়ালে পিঠ দিয়ে হেলান দিয়েও এই স্কোয়াট অভ্যাস করা যেতে পারে।
৫. স্কোয়াট করার সঠিক নিয়ম হলো প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের ওপর ভর দেয়া এবং তারপর ধীরে ধীরে হাঁটু সামান্য ভাঁজ করে নিচে নামা। তাড়াহুড়ো না করে প্রতি এক মিনিটে চার থেকে পাঁচটি করে স্কোয়াট করার চেষ্টা করা উচিত। এই ব্যায়ামটি করার সময় শিরদাঁড়া সবসময় সোজা রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা পুরো শরীরের গঠন ঠিক রাখে।
৬. ব্যায়ামের শেষ অর্থাৎ ১০ নম্বর মিনিটে আর নতুন করে কোনো কঠিন শারীরিক কসরত বা পরিশ্রম করার একেবারেই প্রয়োজন নেই। এই সময়টিতে মন শান্ত করে সোজা হয়ে বসুন অথবা দাঁড়ান এবং গভীর ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম শুরু করুন। নাক দিয়ে বুক ভরে গভীর শ্বাস নিয়ে তা কিছুক্ষণ ধরে রেখে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস ছেড়ে দিন।
টানা ১০ মিনিটের এই সহজ ব্যায়ামের রুটিন নিয়মিত মেনে চললে গাঁটের তীব্র ব্যথা-যন্ত্রণা থেকে খুব দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এটি শুধু তাৎক্ষণিক আরামই দেয় না; বরং দীর্ঘমেয়াদে পেশি ও জয়েন্টের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করে। ইন্টারনেট।



