গভর্নরের তথ্য

যুক্তরাজ্যে জব্দ ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত আসছে

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্যে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘স্টোলেন অ্যাসেট’ বা পাচারকৃত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং শিগগিরই তা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের একাংশের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে গভর্নর এ তথ্য জানান। সভায় দেশের ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার, আর্থিক খাতের সুশাসন, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

গভর্নর বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যে জব্দ হওয়া ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আর্থিক খাতে জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সভায় দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতিও তুলে ধরেন গভর্নর। তিনি জানান, ইতোমধ্যে কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের উন্নয়ন ও সমন্বয় শেষ হলে পুনর্গঠন কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বড় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের বিষয়েও সম্পাদকদের অবহিত করা হয়।

খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের কাজ চলছে, যাতে ঋণসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। একই সাথে আদায় অযোগ্য ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার প্রসারেও বাংলাদেশ ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। গভর্নর জানান, ডিজিটাল ন্যানো-লোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং আধুনিক ক্রেডিট ব্যুরো ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। এছাড়া ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণার মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। উভয় পক্ষ দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।