পুনর্বহাল হচ্ছে একসেপ্ট ইসরাইল

পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিম

শামছুল ইসলাম
Printed Edition

বাংলাদেশী পাসপোর্টে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে জুলাইয়ের শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ এবং ওয়াসিমের ছবি। একই সাথে শেখ হাসিনার বাদ দেয়া ‘একসেপ্ট ইসরাইল বা ইসরাইল ব্যতীত’ শব্দগুলো যোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়াও নতুন করে আরো ১৩টি ছবি যোগ করা হচ্ছে ই-পাসপোর্ট বুকলেটে। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানাগেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের নাগরিকদের সব সময় ইহুদিবাদী ইসরাইল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আছে। এ ছাড়া ভূখণ্ডটির সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বাংলাদেশের কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। এসব কারণে বাংলাদেশী নাগরিকদের সব পাসপোর্টে ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভেলিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড একসেপ্ট ইসরাইল’ লিখে দেয়া হতো। ২০২০ সালে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার পাসপোর্টের এ পাতার লেখাটিতে সংশোধন এনে ‘একসেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ দু’টি বাদ দেয়। এতে লেখা হয় ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভেলিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছরের ৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বাংলাদেশের পাসপোর্টে এক্সেপ্ট ইসরাইল বা ইসরাইল ব্যতীত শব্দবন্ধ বহাল করার কথা বলা হয়। পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালককে দেয়া চিঠিতে আগের মতো বাংলাদেশী পাসপোর্টে ইসরাইল ব্যতীত পুনর্বহালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সিদ্ধান্তে কূটনৈতিক পাসপোর্টের বাইরে বড় পরিসরে কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকার সব ধরনের পাসপোর্টে এটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিল।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নতুন পাসপোর্টে ইসরাইল ব্যতীত শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। পুরনো পাসপোর্টধারীদের জন্য আলাদা করে তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। মেয়াদ শেষে নবায়নের সময় নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পাসপোর্ট থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু), শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নৌকাসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ছবি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মেহেরপুরে মুজিবনগর সরকারের স্মৃতিসৌধের ছবি বাদ যাচ্ছে।

পাসপোর্ট থেকে বাদ যাচ্ছে কী

বর্তমানে ই-পাসপোর্টের প্রতিটি পৃষ্ঠায় জলছাপে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি রয়েছে। নতুন পাসপোর্টে জলছাপে থাকা ব্যক্তি, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠান বাদ দেয়া হচ্ছে। সেসব স্থানে নতুন ছবি যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ই-পাসপোর্টে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা ছবির দুই পাশে শহীদ মীর মুগ্ধ এবং শহীদ ওয়াসিমের ছবি। এ ছাড়া সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন, দিনাজপুরের কান্তজিও মন্দির, ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ছবি (নৌকা ব্যতিত), সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, জাতীয় মাছ ইলিশ,

বান্দরবানের নীলগিরি পর্বত, ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল, জাতীয় ফল কাঁঠাল, বান্দরবান স্বর্ণমন্দির, রাজশাহীর আম বাগান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানামনগরীর ছবি, হলি রোজারি চার্চ পাসপোর্টে স্থান পাচ্ছে।

আগের যেসব ছবি থাকছে, সেগুলো হলো জাতীয় ফুল শাপলা, বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় পাখি দোয়েল, শহীদ মিনার, সুপ্রিম কোর্ট, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা অনির্বাণ, লালবাগ দুর্গ, হাতিরঝিল, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, কার্জন হল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, সোনালি আঁশ পাট, চা বাগান, সুন্দরবন এবং ‘সংগ্রাম’ জয়নুল আবেদিন চিত্রকর্ম।