দখল-দূষণে অস্তিত্ব সঙ্কটে কুমার নদ

ভাঙ্গায় প্রায় ৫০ স্থানে নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে

Printed Edition

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কুমার নদ দখল, দূষণ ও নাব্যতা সঙ্কটে অস্তিত্ব হারানোর পথে। শিল্পকারখানার বর্জ্য, নালা-নর্দমার ময়লা ও অব্যাহত দখলে হারিয়ে যাচ্ছে নদটির প্রবাহ, জীববৈচিত্র্য এবং শত বছরের ঐতিহ্য।

এক সময়ের খরস্রোতা কুমার নদ এখন অনেকটাই মৃতপ্রায়। ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মানদী থেকে উৎপন্ন হয়ে ফরিদপুর সদর, সালথা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর হয়ে মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ নদে মিলিত হওয়া এ নদ একসময় এ অঞ্চলের যোগাযোগ, কৃষি ও বাণিজ্যের প্রধান ভরসা ছিল। পালতোলা নৌকা, লঞ্চ-স্টিমার চলাচল এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ছিল নদকেন্দ্রিক জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দখল ও দূষণের কারণে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় বিলীন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর দুই তীর অবৈধভাবে দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অপরিকল্পিত খননের নামে দখলদারদের বৈধতা দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে শিল্পকারখানা, হাসপাতাল-ক্লিনিক এবং নালা-নর্দমার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ভাঙ্গা পৌর এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে নদীর তীর এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বাজারের প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতলসহ নানা বর্জ্য বছরের পর বছর নদীতে ফেলা হচ্ছে। অনেক বাসাবাড়ির পয়োনিষ্কাশনের লাইনও সরাসরি নদীতে সংযুক্ত থাকায় দুর্গন্ধে নদীপাড় দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

দূষণের কারণে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এতে স্থানীয় জেলেরা জীবিকা হারাচ্ছেন এবং অঞ্চলে মাছের উৎপাদনও কমেছে। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় কৃষি ও স্থানীয় নৌপথনির্ভর অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, একসময় ভাঙ্গার হাটে শত শত পাট বোঝাই নৌকা ভিড়ত। দিন-রাত লঞ্চ-স্টিমার চলাচলে নদী ছিল প্রাণবন্ত। এখন সেই দৃশ্য শুধু স্মৃতিতে। আরেক বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, কুমার নদকে ঘিরে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু নদী দখল ও নাব্যতা হারানোর কারণে সেই আয়োজনও বন্ধ হয়ে গেছে।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, কুমার নদকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। নদীর দুই তীর দখলমুক্ত করে সৌন্দর্যবর্ধনের একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি পৌর এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় দুই বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, কুমার নদ এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে আছে। নদী দখল ও দূষণমুক্ত করে নাব্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।