অভিজ্ঞতার সামনে আফ্রিকান গতির চমক

সুইজারল্যান্ড-আলজেরিয়া

Printed Edition
নিজেদের ঝলক দেখিয়ে শেষ ষোলোতে উঠতে মরিয়া সুইজারল্যান্ডের গ্রানিথ জাকা ও আলজেরিয়ার রিয়াজ মাহারেজ	: ইন্টারনেট
নিজেদের ঝলক দেখিয়ে শেষ ষোলোতে উঠতে মরিয়া সুইজারল্যান্ডের গ্রানিথ জাকা ও আলজেরিয়ার রিয়াজ মাহারেজ : ইন্টারনেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচ। সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। দুই দলই নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়ে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। ইউরোপ ও আফ্রিকার দেশ দু’টির লক্ষ্য এখন লক্ষ্য একটাই- শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করা। এক দিকে ইউরোপীয় ফুটবলের সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ দল সুইজারল্যান্ড, অন্য দিকে আফ্রিকান ফুটবলের গতি, শক্তি ও লড়াকু মানসিকতার প্রতীক আলজেরিয়া। শক্তির বিচারে দুই দলের লড়াই তেমন আলোচিত না হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকে এটি হতে পারে আকর্ষণীয়। বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ৯টায় ভ্যাঙ্কুভারে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণে মাঠে নামবে দুই দল।

এবার ডেজার্ট ওয়ারিয়র্সের দল ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে। এর আগে ২০১৪ সালেই শেষ ষোলোতে পৌঁছালেও জার্মানির কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন আলজেরিয়ার আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মোহাম্মদ এল আমিন আমুরা। দলটির আক্রমণভাগে আছেন রিয়াদ মাহরেজ, ইব্রাহিম মাজা, ফারেস চাইবি ও আমিন গৌরি। রক্ষণে আছেন আইসা মান্দি ও রামি বেনসেবাইনি। ৬৪তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় মিডফিল্ডার নাবিল বেনতালেব।

এই বিশ্বকাপে নিজেদের সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী দল হিসেবে তুলে ধরেছে আলজেরিয়া। তারা গতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের ওপর ভরসা করে খেলতে পছন্দ করে। প্রতিপক্ষকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরে দ্রুত আক্রমণে ওঠার দক্ষতা তাদের অন্যতম বড় অস্ত্র। নকআউট পর্বে এমন কৌশল অনেক সময় বড় দলগুলোর বিপক্ষেও কার্যকর হয়ে ওঠে।

আলজেরিয়ার পরিকল্পনা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণে সংগঠিত থেকে এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে পারে আফ্রিকার দেশটি। তাদের দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডরা ব্যস্ত রাখার ক্ষমতা রাখে সুইস রক্ষণভাগকে। এ ছাড়া কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকেও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে সক্ষম আলজেরিয়া।

কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স ছিল লুকা জাকেজের। এই ম্যাচে রাইট-ব্যাক হিসেবে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে তার। সেন্টার-ব্যাকে জায়গা ধরে রাখবেন নিকো এলভেডি এবং ম্যানুয়েল আকানজি। মিডফিল্ডে গ্রানিত জাকার অন্তর্ভুক্তি, অন্য দিকে স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোর পেছনে জোহান মানজাম্বির কারিগরি দক্ষতা এবং লড়াকু মনোভাব কাজে আসতে পারে।

সুইজারল্যান্ড বরাবরই বড় টুর্নামেন্টে কঠিন প্রতিপক্ষ। তারা হয়তো খুব বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে না, কিন্তু দলগত শৃঙ্খলা, শক্ত রক্ষণ এবং পরিকল্পিত আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে জানে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের বড় বড় দলের বিপক্ষেও তারা ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করেছে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ম্যাচের পুরো সময় একই ছন্দ ধরে রাখার ক্ষমতা।

সুইজারল্যান্ডের আক্রমণের বড় ভরসা হবে তাদের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ও উইং খেলোয়াড়রা। দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলে বক্সের ভেতরে সুযোগ তৈরি করাই হবে তাদের পরিকল্পনা। পাশাপাশি ফুল-ব্যাকদের ওভারল্যাপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আক্রমণে অতিরিক্ত খেলোয়াড় তুলে দিলে রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে।

ফিটনেসও এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সুইজারল্যান্ডকে কিছুটা এগিয়ে রাখলেও কোনোভাবেই হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই আলজেরিয়াকে। বড় টুর্নামেন্টে একাধিকবার প্রমাণ করেছে যে, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য রাখে আফ্রিকান দলগুলো। সুইজারল্যান্ডের সাথে ম্যাচটি উয়েফা দলের বিপক্ষে আলজেরিয়ার ইতিহাসে তৃতীয় লড়াই। এর আগে ১৯৮৩ সালের নভেম্বরে প্রীতিম্যাচে আলজেরিয়া ২-১ জয়ী এবং ১৯৮৬ সালের মে মাসে ২-০ গোলে জিতেছিল সুইসরা।