কৃষকের উৎপাদনঝুঁকি কমাতে চালু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ নির্ভর শস্যবীমা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জলজট, খরা ও অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদনঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এই আর্থিক ক্ষতি থেকে চাষিদের সুরক্ষা দিতে ‘কৃষক কার্ড’কে ভিত্তি ধরে অঞ্চল ও ফসলভিত্তিক শস্যবীমার নির্দেশিকা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথম দফায় দেশের ঝুঁকিপ্রবণ এলাকাগুলোতে আবহাওয়া সূচকভিত্তিক পাইলট কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর খামারবাড়িতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘ফারমার্স রিস্ক ম্যানেজমেন্ট থ্রু ক্রপ ইন্স্যুরেন্স ইন বাংলাদেশ : চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালায় বক্তারা এসব তথ্য জানান।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন, “ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় শস্যবীমাকে শুধু বেসরকারি বীমা কোম্পানির ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির অংশ হিসেবে দেখলে চলবে না। এটিকে রাষ্ট্রীয় কল্যাণমূলক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।” তিনি আরো বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির জন্য সরকারি বরাদ্দ, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে একটি আলাদা ‘সহায়তা তহবিল’ বা অ্যান্ডোর্সমেন্ট ফান্ড গঠন করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বিআরডিএ), বগুড়ার মহাপরিচালক ড. মো: আব্দুল মজিদ বলেন, সব অঞ্চলের ঝুঁকি এক নয়। তাই ঢালাওভাবে বিমা না করে অঞ্চল ও ফসলের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা প্যাকেজ তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের সূর্যমুখী ও সিলেটের পতিত জমিতে সম্ভাবনাময় ফসল চাষে প্রাথমিক বিমা সুবিধা দেয়া যেতে পারে। কৃষক কার্ডে জমি, ফসল ও ওয়েদার ডাটা ডিজিটালভাবে যুক্ত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির সময় মোবাইল ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে।

কর্মশালার সভাপতি ও বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির মাধ্যমে এই ফসল বীমার নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে নির্দেশিকাটির যাচাই কাজ শেষ হয়েছে। এটি চূড়ান্ত করে দ্রুতই কৃষি মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে এবং পরে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামালের উপস্থিতিতে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. মো: ওয়াকিলুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম, বিএআরসির সদস্য পরিচালক ড. মো: মোশাররফ উদ্দিন মোল্লা এবং ব্রি-এর মহাপরিচালক ড. মো: রফিকুল ইসলাম।