নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব, তবু অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার মেনে নেব না। তিনি বলেন, ভারত তো বিশাল দেশ। তাদেরকে আমি শ্রদ্ধা করি এজন্য যে তাদের দেশে গণতন্ত্রটাকে তারা খুব লালন করেন। তবে মন থেকে আরো বেশি শ্রদ্ধা করবো তারা যদি ওই দেশের সংখ্যালঘুদের আপন করে নেয়, নিরাপত্তা দেয় এবং জনগণের একটা অংশ হিসেবে মনে করে সব ব্যবস্থা নেয়।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
সাংবাদিকদের প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সমাজে কিছু ব্যক্তি ভুল করলেও পুরো সাংবাদিক সমাজকে দায়ী করা যায় না। তিনি মরহুম সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের সততা ও দেশপ্রেমের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি বড় সাংবাদিক হয়েও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তার সততা ও নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করত। আমি জনগণের একজন কর্মী। সাংবাদিকরা যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি আমার কাছে আসতে পারবেন।
একই সাথে তিনি সাংবাদিকদের গণতন্ত্র রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেকে সহ্য করতে পারছে না যে তারেক রহমান প্রথমবার এমপি ও প্রধানমন্ত্রী হয়ে এত কাজ করছেন। তাই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলেও মাদক, জুয়া ও ফেনসিডিলের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক সম্রাটদের মুখোশ উন্মোচনে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তবে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ধর্মীয় গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। স্বৈরাচার সরকারের সময় করা আইনটির অপব্যবহার হয়েছিল। কিন্তু আইনটি পুরোপুরি বাতিল করে অপপ্রচারকারীদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচার ঠেকাতে নতুনভাবে আইন প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো মতপ্রকাশ দমনের পক্ষে নন। বিরোধী মত দমন বা সাংবাদিকদের হয়রানির জন্য আইন ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।
রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইসলাম ধর্মে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখেই রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপনের নির্দেশনা রয়েছে। সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে ঈদ করতেই হবে এমন কোনো নির্দেশনা কুরআন-হাদিসে নেই।
হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেই গভীর রাত পর্যন্ত হাজীক্যাম্পে অবস্থান করে হাজীদের সমস্যা পর্যবেক্ষণ ও সমাধানের চেষ্টা করছেন। যদি কোথাও খাবারের মান খারাপ হয়, প্রমাণ দিলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেব। পর্যটন করপোরেশন খুব ভালো মানের খাবার সরবরাহ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খাবারের দামও কম রাখা হয়েছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাজীরা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহই তাদের হেফাজত করবেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিও অনেকটা কমে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বছরও শান্তিপূর্ণভাবে হজ সম্পন্ন হবে। হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়ম ও হজের ব্যয় কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে হজ খরচ কিছুটা কমিয়েছে এবং আগামীতে আরো কমানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে হজের খরচ আরো কমবে ইনশাআল্লাহ।
বিশ্ব ইজতেমায় দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি ইসলাম সমর্থন করে না। দুই পক্ষ একসাথে কাজ করলে সরকার খুশি হবে। তবে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। তিনি বলেন, একটা জিনিস হলো কী, একজনকে জোর করে রাজি করানো যায়? জোর করে রাজি করানো যায় না। উদ্দেশ্য ভালো থাকলে তখন সম্ভব হয়। এখানে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে সহ্য করতে পারছে না। আল্লাহ পাক তাদেরকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিক। আল্লাহ তাদেরকে মিলার ব্যবস্থা করে দিক এবং একটা সুন্দর আগের মতো অবস্থানে থেকে তারা যেন তাবলিগের কাজগুলো করতে পারে।



