উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই বরিশালের উজিরপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে সবজি, মাছ, গোশত, ডাল, তেল ও ফলের দাম। বিশেষ করে খেজুর ও ইফতার সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। বাজার করতে গিয়ে অনেকেই হাঁসফাঁস করছেন।
গতকাল রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২২টি ছোট-বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচাবাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম চড়া। বেগুনের কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, করলা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ও গোশতের বাজারেও একই চিত্র। রুই মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং পাঙ্গাশ ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম প্রকার ভেদে ৮০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং গরুর গোশত ৮০০ টাকা কেজি। ডালের বাজারেও স্বস্তি নেই। খেসারির ডাল ১০০ টাকা, মুগডাল ১৫৫ টাকা, দেশি মসুর ১৬০ টাকা এবং ছোলা ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ২০০ টাকা এবং সরিষার তেল ২২০ টাকা।
ফলের বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা খেজুরকে ঘিরে। কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের খেজুরে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে জাহিদী ৩২০ টাকা, খুরমা ৩৫০ টাকা, নাগাল ৪০০ টাকা, বড়ই ও গাবাজ ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কালমি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা এবং মেডজুল এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা কেজি। আজওয়া খেজুরের দাম চাওয়া হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।
এ ছাড়া কালো আঙুর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সাদা আঙুর ৫২০ থেকে ৫৫০ টাকা, আপেল ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, কমলা ও মাল্টা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং আনার ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় উঠেছে।
ফল ক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, অন্য দেশে রমজান এলে নাকি দাম কমে, আর আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। সামান্য অজুহাত পেলেই দাম বাড়ে। আরেক ক্রেতা শারমিন আক্তার বলেন, ফলের দামে আগুন। অনেকেই হয়তো ফল ছাড়াই ইফতার করবেন।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, রমজানকে কেন্দ্র করে ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়ানো হয়নি। শিকারপুর বন্দরের এক পাইকারি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। পরিবহন ব্যয় ও চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবও পড়ছে দামে।



