কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ হাজার পরিবারকে খাদ্যসহায়তা প্রদানের অংশ হিসেবে চকরিয়া পৌরসভায় এক হাজার বন্যা দুর্গত, অসহায়, নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করেছে আইএসডিই বাংলাদেশ। শুক্রবার চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নির্বাচিত সুবিধাভোগীদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয়া হয়।
সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের অর্থায়নে পরিচালিত এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আইএসডিই বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনগণ ঘরবাড়ী ও সহায় সম্বল হারিয়েছে। অনেকে খাবারের অভাবে অনাহারে দিন যাপন করেছেন। আবার ক্রমাগত নিত্য খাদ্য পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সঙ্কটে পড়া বানবাসী ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এ এম আলী আকবর, শহীদুল ইসলাম, শেখ আহমদ ও নাছির উদ্দীন, সমাজসেবক লায়ন জিয়াউল করিম ও মনসুর আলম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শামসুদ্দিন টিটুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আইএসডিই বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচি সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দীন, প্রজেক্ট অফিসার সুপম বড়ুয়া এবং প্রজেক্ট অফিসার (মিল) তাজ উদ্দীন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর এমন কার্যক্রম সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়ার এই উদ্যোগ অবশ্যিই প্রশংসার দাবিদার।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, ‘আইএসডিই সংস্থা যথেষ্ট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’
আইএসডিই বাংলাদেশের কর্মসূচি সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ হাজার পরিবারকে আইএসডিইর পক্ষ থেকে খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হবে। দুর্যোগপ্রবণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের অঙ্গীকার। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা ধারাবাহিকভাবে হোস্ট কমিউনিটি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ তিনি জানান, প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, সাত কেজি ডাল, তিন লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি চিনি ও এক কেজি লবণ সমন্বয়ে একটি খাদ্য প্যাকেজ দেয়া হয়।
খাদ্যসহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা। তারা বলেন, ‘বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে পরিবারের খাবারের খরচ চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সহায়তা আমাদের অনেক উপকারে এসেছে।’ বিজ্ঞপ্তি।



