আষাঢ় মাস শেষের পথে। আসছে শ্রাবণ। বর্ষা ঋতু যেন তার স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। দেশজুড়ে প্রবল বর্ষণে নাকাল লাখ লাখ মানুষ। পানিবন্দী হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। এই বর্ষায় অতিবর্ষণে মানুষের, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সতর্ক না থাকলে প্রাণ নিয়ে টানাটানি অবস্থায় পড়তে হতে পারে। তাই বর্ষাকালে সুস্থ থাকতে হলে সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে। এজন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার। এই যেমন : শুধুমাত্র ফোটানো বা ফিল্টার করা পানি পান করুন। মশা তাড়ানোর ¯েপ্র ও মশারি ব্যবহার করে মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
জমে থাকা বন্যার পানিতে নামা থেকে বিরত থাকুন কারণ এতে নানা রোগের আশঙ্কা থাকে। সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে ঘন ঘন হাত ধোয়া। ভেজা কাপড় বেশি সময় না পরে থাকা। পুরোপুরি শুকানো এবং পানিরোধী ও বাতাস চলাচলযোগ্য জুতো পরার মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
খাদ্য ও পুষ্টিতাজা ও গরম খাবার খান : সদ্য রান্না করা গরম খাবারের ওপর মনোযোগ দিন। রাস্তার বিক্রেতাদের কাছ থেকে কাটা ফল খাওয়া এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং খাদ্যবাহিত রোগের কারণ হতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ মতা বাড়ান : সর্দি ও ফুর বিরুদ্ধে আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে নানা নধরনের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া বাড়ান।
শরীরকে আর্দ্র রাখুন : শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং কর্মশক্তি বজায় রাখতে ভেষজ চা, গরম পানি ও তাজা ফলের রসের মতো প্রচুর পরিমাণে তরল পান করতে থাকুন।
রোগ প্রতিরোধবাহক নিয়ন্ত্রণ : বদ্ধ পানি ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া বহনকারী মশার বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত স্থান। আপনার বাড়ির আশেপাশে থাকা খোলা বালতি, ফুলের টব এবং ময়লার পাত্র পরিষ্কার রাখুন। মশারি ব্যবহার করুন এবং ডিইইটি যুক্ত মশা তাড়ানোর ¯েপ্র বা নিম তেলের মতো প্রাকৃতিক বিকল্প প্রয়োগ করুন।
দূষিত পানি পরিহার করুন : বন্যার পানির মধ্যে দিয়ে হাঁটার সময় লেপ্টোস্পাইরোসিস হওয়ার ঝুঁঁকি থাকে। আপনার পা-কে কাটাছেঁড়া ও ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করার জন্য উপযুক্ত গামবুট বা পানিরোধী জুতো পরুন।
নিয়মিত গোসল করুন : বৃষ্টিতে ভিজে গেলে, ঠাণ্ডা লাগা বা ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণ এড়াতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গোসল করে শুকনো পোশাক পরুন।
স্বাস্থ্যবিধি ছত্রাক প্রতিরোধ করুন : উচ্চ আর্দ্রতার কারণে আপনার বাড়িতে ছত্রাক ও শ্যাওলা জন্মানোর ঝুঁঁকি থাকে। আপনার ঘরের ভেতরের জায়গাগুলো ভালোভাবে বাতাস চলাচলযোগ্য ও শুষ্ক রাখুন, কারণ স্যাঁতসেঁতে ভাব হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সঠিক জুতা : অ্যাথলেটস ফুট এবং অন্যান্য ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে, পুনরায় পরার আগে আপনার জুতা ও মোজা সম্পূর্ণ শুকনো আছে কি না তা সর্বদা নিশ্চিত করুন। ইন্টারনেট।



