বন্যার ধকল কাটিয়ে আমন রোপণে ব্যস্ত দক্ষিণ চট্টগ্রামের চাষিরা

Printed Edition

এসএম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

বন্যার ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাজার হাজার কৃষক। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গত শুক্রবার পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা দলবদ্ধভাবে কিংবা এককভাবে জমিতে আমনের চারা রোপণ করছেন। অনেকে বীজতলা থেকে চারা উত্তোলনেও ব্যস্ত রয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় এক লাখ ৭৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত ৬২ হাজার ৩২৯ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩৪ শতাংশ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আপ্রু মার্মা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বন্যার কারণে আমন রোপণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চারা রোপণ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, গত ৬ থেকে ১২ জুলাই টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়। এতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীসহ জেলার এক লাখ ২৬ হাজার ৫১১ কৃষক পরিবারের প্রায় ২২২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যায় ১৬ হাজার ১৩২ হেক্টর ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর সবজি, ৯ হাজার ১১৮ হেক্টর আউশ ধান, ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমন বীজতলা, ৭৮ হেক্টর পান, ৪০ হেক্টর আদা ও ২৮ হেক্টর হলুদ রয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৬৮৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৩৩ হাজার ৬৯৬ কৃষকের মধ্যে ১৬৮ দশমিক ৪৮ মেট্রিক টন ধান উন্নতমানের জন্য আমন বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা নতুন করে আমন আবাদে মাঠে নেমে চারা রোপনে কোনো ধরণের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।