পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিল বিসিআইসি কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাসিব হাসান রিয়ানের। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর রিং রোডে আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। প্রায় দুই বছর পরও পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।
পরিবারের দাবি, সন্তান নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তারা এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পায়নি। রিয়ানের বাবা গোলাম রাজ্জাকের করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়ে পরিবার হতাশা প্রকাশ করেছে।
পরিবার জানায়, এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া রিয়ানের স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়া। টেলিভিশনে সে আগ্রহ নিয়ে উড্ডয়ন ও অবতরণের দৃশ্য দেখত। পালন করত পরিবারের বিভিন্ন দায়িত্বও। তার বাবা বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, জুলাইয়ের আন্দোলনের পুরো সময়ই রিয়ান ঘটনাপ্রবাহের খোঁজখবর রাখত। বিশেষ করে ১৮ জুলাই তার বন্ধু ফারহান ফাইয়াজ নিহত হওয়ার খবর তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পরিবারের সদস্যদের সে জানিয়েছিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নিজের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর শ্যামলী, মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় মানুষের সমাগম শুরু হয়। পরিবারের নিষেধ উপেক্ষা করে রিয়ানও একটি বিজয় মিছিলে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হন। রিং রোড এলাকায় সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরিবারের দাবি, তার বুকে, গলায় ও কাঁধে গুলি লাগে। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রিয়ান মারা যায়। সেদিন রাতেই শ্যামলী জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা কবরস্থানে তার নানার কবরের পাশে দাফন করা হয়।
রিয়ানের বাবা জানান, তাদের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৫৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত তারা সন্তুষ্ট নন। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরিবারকে নিয়মিত অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ তার।
পরিবারের কোনো আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন নেই; সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার চান রিয়ানের বাবা। একই সাথে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান। তার মতে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার যথাযথ বিচার করা।
রিয়ানের মায়ের বর্তমান অবস্থার কথাও তুলে ধরে গোলাম রাজ্জাক বলেন, ছেলেকে হারানোর পর থেকে তার স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের নিয়মিত ওষুধ ও ইনজেকশন গ্রহণের বিষয়টি দেখাশোনা করতেন রিয়ান। ছেলের মৃত্যুর পর তিনি স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতে পারেননি।



