সূচনায় প্রাণবন্ত, উত্তাপে শেষ

Printed Edition

সংসদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব নিয়ে ৫৪ বছর আগের পুনরাবৃত্তি

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিরোধী এমপিদের প্রতিবাদ-হট্টগোল,ওয়াকআউট

সভাপতিমণ্ডলী ও সংসদীয় কমিটি গঠন, পরবর্তী অধিবেশন রোববার

খালেদা জিয়া, নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী, আবু সাঈদ-মুগ্ধদের শোক প্রস্তাবে স্মরণ

কাওসার আজম

বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলো নানা নাটকীয়তা, উত্তেজনা ও তীব্র বিতর্কের মধ্য দিয়ে। প্রথম দিনের অধিবেশন এক দিকে যেমন প্রাণবন্ত আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে, অন্য দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে নজিরবিহীন বিােভ, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ, স্লোগান ও ওয়াকআউটের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ ক। সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে দিনের শুরুতে সংসদীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত থাকলেও রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘোষণার পরই হঠাৎ করে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন তার নির্ধারিত ভাষণ দেন। পরে নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

প্রথম দিনের অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলী গঠন, শোকপ্রস্তাব গ্রহণ, সংসদীয় বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে বিরোধী জোটের অভিনব প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট।

স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে ঐতিহাসিক মুহূর্ত : সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সংসদকে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় একই সময়ে প্রবেশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট পর বেলা ১১টা ৫ মিনিটে অধিবেশন শুরু হয়।

বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে কারাগারে রয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে স্পিকারের আসন খালি রেখেই গতকাল বেলা ১১টার পর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল প্রথম সংসদে স্পিকার না থাকায় তখনকার প্রধানমন্ত্রী সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্য মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশকে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন। এরপর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হয়। সংসদ সচিব কানিজ মওলা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে অস্থায়ী স্পিকার হিসেবে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করেন। বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এতে সমর্থন জানান। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও এতে সমর্থন ও ধন্যবাদ জানান।

বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্পিকারের চেয়ারে আসীন হন। তার সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৮ ও ৯ ধারা অনুযায়ী চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন। খুলনা থেকে নির্বাচিত এমপি হুইপ রকিবুল ইসলাম এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। একইভাবে, ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন আরেক হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপি এবং এই প্রস্তাব সমর্থন করেন হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) এমপি। দু’টি পদে একটি করে মনোনয়ন জমা পড়ায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে তোলা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। তবে, কণ্ঠভোটের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের নীরব থাকতে দেখা যায়। এরপর ৩০ মিনিটের বিরতি দিয়ে অস্থায়ী স্পিকার তার আসন ছাড়েন। পরে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান। বিরতির সময়ই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য হিসেবে টাঙ্গাইল থেকে নির্বাচিত আহমেদ আযম খানকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। শপথ শেষে স্পিকারের আসনে বসেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সাউন্ড সিস্টেমে বিপর্যয়, ২০ মিনিটের বিরতি : বেলা ১২.৫৪ মিনিটে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। তবে শুরুতেই স্পিকারের মাইক্রোফোনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় কিছু সময়ের জন্য সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। শব্দবিভ্রাটের কারণে স্পিকার স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারায় তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন।

স্পিকার বলেন, ‘এই মহান সংসদের স্পিকার নির্বাচিত করার জন্য আমি সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বর্তমানে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে আমার কথা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে না। তাই কিছুণ অপো করতে হবে।’ পরে কারিগরি ত্রুটি আংশিকভাবে সমাধান হলে অধিবেশন আবার শুরু হয়।

সভাপতিমণ্ডলী ও সংসদীয় কমিটি গঠন : স্পিকার অধিবেশন পরিচালনায় সহায়তার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী (প্যানেল স্পিকার) মনোনীত করেন। তারা হলেন- বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য যথাক্রমে-মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলাম।

একই দিনে সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি, সংসদ কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটি এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটিসহ মোট পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠনও করা হয়। এসব কমিটির প্রস্তাব সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

কার্যউপদেষ্টা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ সংসদ সদস্যরা।

শোক প্রস্তাবে খালেদা জিয়া, নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী, আবু সাঈদ-মুগ্ধদের স্মরণ : প্রথম দিনের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের ও বিশ্বের ৩১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

শোক প্রস্তাব উত্থাপনকালে স্পিকার বলেন, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ এক বিশাল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। জাতীয় সংসদ তার অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়।

শোক প্রস্তাবের তালিকায় আরো ছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ আরো অনেক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। শোক প্রস্তাবের এই তালিকায় মাওলানা নিজামী, মাওলানা সাঈদীসহ শীর্ষনেতাদের নাম না থাকায় বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে থাকেন। এরই মধ্যে সরকার দলীয় চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম স্পিকারকে সিøপ দিয়ে এসব নাম যুক্ত করতে অনুরোধ জানান। পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের স্পিকারের অনুমতি নিয়ে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আব্দুস সোবহান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মীর কাসেম আলীসহ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং কারাগারে মৃত্যুবরণ করা নেতাদের নাম ওই প্রস্তাবে যুক্ত করার অনুরোধ জানান। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। এরপর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শহীদ ওসমান হাদী, আবরার ফাহাদ ও ভারত সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে হত্যার শিকার ফেলানীকে এই তালিকায় যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। স্পিকার এই প্রস্তাবটিকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান।

বেগম খালেদা জিয়া ও জুলাই শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন সরকার দলীয় এমপি ও মন্ত্রী যথাক্রমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমেদ, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও অনিন্দ ইসলাম অমিত, জামায়াতে ইসলামীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম, এনসিপির নাহিদ ইসলাম, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকি। পরে তাদের স্মরণে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং মুনাজাত করা হয়। ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ মুনাজাত পরিচালনা করেন।

১৩৩ অধ্যাদেশ উত্থাপন, যাচাইয়ে বিশেষ কমিটি : অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদিনকে। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি তহবিল অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬ বিশেষভাবে আলোচিত।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে নজিরবিহীন বিােভ : অধিবেশন চলাকালে বেলা ৩টা ৩৩ মিনিটে স্পিকার সংসদে রাষ্ট্রপতির আগমনের বার্তা ঘোষণা করেন। এ সময় থেকেই বিরোধী সদস্যরা বিােভ শুরু করেন। বিউগলের সুরের মধ্যে অধিবেশন কে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠার সময় সরকারদলীয় সদস্যরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রথমে বসে থাকলেও পরে জাতীয় সঙ্গীতের মাঝামাঝি সময়ে বিরোধী সদস্যরাও দাঁড়িয়ে যান। বিরোধী এমপিদের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান জানিয়েই তারা দাঁড়িয়েছেন।

জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার পরই প্ল্যাকার্ড হাতে বিােভ শুরু করেন জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল-‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’। তারা রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে ‘খুনি’, ‘কিলার চুপ্পু’, ‘ফ্যাসিস্ট চুপ্পু’, ‘গেট আউট চুপ্পু’ ইত্যাদি সেøাগান দিতে থাকেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বিরোধী সদস্যরা সেøাগান দিতে থাকেন- ‘ফ্যাসিবাদ-গণতন্ত্র একসাথে চলবে না’, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা হুঁশিয়ার সাবধান।’ বিােভের সময় তারা টেবিল চাপড়াতে থাকেন এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকেন। এতে সংসদ কে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপির কয়েকজন এমপি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা কাজটি ঠিক করছেন না। রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা উচিত নয়।’ তবে অধিকাংশ সরকারদলীয় সদস্যকে এ সময় নীরব থাকতে দেখা যায়।

বিােভ চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান মাইক ছাড়াই বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী। এই সংসদে আমরা তার ভাষণ মেনে নিতে পারি না।’

চার মিনিটের অচলাবস্থা : বিােভের একপর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের আসন ছেড়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ডায়াসের দিকে এগিয়ে গেলে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: তাহের ও চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তাকে থামিয়ে দেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। প্রায় চার মিনিট ধরে সংসদের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরে রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারিত ভাষণ শুরু করেন। তবে ভাষণ চলাকালেও বিরোধী সদস্যদের বিােভ অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে সেøাগান দিতে দিতে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদ ক থেকে ওয়াকআউট করেন।

আগামী রোববার ফের বসবে সংসদ : বিরোধীদের ওয়াকআউটের পর তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারিত ভাষণ শেষ করেন। ভাষণ শেষে তিনি অধিবেশন ক ত্যাগ করেন। এরপর স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত মূলতবি ঘোষণা করেন।