নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা রয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গতকাল গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএমে বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাকিলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভা উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার নিশ্চিত করারই অংশ। প্রত্যেক মানুষের কিছু অবিচ্ছেদ্য, সহজাত ও সর্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা যাতে এসব অধিকার যথাযথ প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারকে শুধু কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখলে চলবে না। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে সে অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সমন্বয় সভায় সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল আইনি সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ৯টি জেলার ৫৭টি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ৪১৩টি ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরো কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
জেলাগুলো হলো রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ, বরগুনা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি ও বগুড়া।
এসব কমিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দরিদ্র মানুষ, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী যাতে সহজে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পান, সে ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা হবে। একই সাথে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।



