নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কলাবাগান ও মোহাম্মদপুরে পৃথক তিনটি ঘটনায় এক ব্যবসায়ী ও সাবেক বিএনপি নেতাকে গুলি এবং এক ছাত্র সমন্বয়ক ও এক স্কুলশিক্ষার্থীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতে এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজধানীর কলাবাগানের পান্থপথ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো: শফিকুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী ও সাবেক বিএনপি নেতা আহত হয়েছেন। রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে জুতার মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় কমফোর্ট হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
আহতকে হাসপাতালে নিয়ে আসা শাহপরাণ জানান, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা শফিকুর রহমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তার বাম হাতের তালুতে গুলি লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। শফিকুর রহমান কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার সিদলাই গ্রামের মৃত মফিদুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তিনি টঙ্গীর মধ্যবিদ্যা রোড এলাকায় বসবাস করেন। তিনি ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং জুতার ব্যবসার সাথে জড়িত। স্থানীয় বিভিন্ন দোকানে জুতা সরবরাহ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ফজলে আশিক বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। আহত ব্যক্তি বা তার পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। হামলার কারণও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় সোহান (১৬) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতে নবীনগর হাউজিংয়ের দুই নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
আহত সোহানের বাবা জামাল হোসেন জানান, রাত ৯টার দিকে সোহান দুই বন্ধুসহ নবীনগর হাউজিং এলাকায় যাচ্ছিল। এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী তার এক বন্ধুর কাছ থেকে মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বন্ধুকে রক্ষা করতে গেলে সোহান মোবাইল ফেলে দৌড় দেয়। তখন ছিনতাইকারীরা তার দুই হাঁটুর নিচে কুপিয়ে জখম করে। তিনি দাবি করেন, ঢাকা উদ্যান এলাকার শাহিন নামে এক ছিনতাইকারীর সহযোগীরাই এ হামলা চালিয়েছে। সোহান তুরাগ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।
অন্যদিকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ময়ূর ভিলার পাশের ঢালে এক চা দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ইব্রাহিম খলিল নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সমন্বয়ককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তিন থেকে চারজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি এসে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ইব্রাহিমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার এক হাতের কনুই প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। হামলার পর তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
আহত ইব্রাহিমকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। আহতের স্বজনদের দাবি, ইব্রাহিম জুলাই আন্দোলনের একটি মামলার সাক্ষী। এ কারণে তাকে আগে থেকেই হুমকি দেয়া হচ্ছিল। আন্দোলন-সংক্রান্ত শত্রুতার জেরেই এ হামলা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
হামলার সময় তার সাথে ছিলেন আরিফ আহমেদ নামে এক স্কুলশিক্ষক। তিনিই আহত ইব্রাহিমকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার হাত ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনটি ঘটনারই তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে। এ দিকে ইব্রাহিমের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। ঘটনার দিন রাতে পঙ্গু হাসপাতালে আহত ইব্রাহিমের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তিনি।



