বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

Printed Edition
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রাধ্যক্ষরা নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন :  নয়া দিগন্ত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রাধ্যক্ষরা নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন : নয়া দিগন্ত

রাজশাহী ব্যুরো

বর্ণাঢ্য আয়োজন, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ এবং নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘শিক্ষা-গবেষণা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’।

সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ সময় ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মো: ফরিদুল ইসলাম, প্রোভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর মো: আবদুল আলিম এবং প্রোভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন। একই সাথে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষরা নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা, বর্ণিল বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, রাবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো: মতিয়ার রহমান, অনুষদ অধিকর্তা, সিন্ডিকেট সদস্য, প্রক্টর প্রফেসর মো: মাহবুবুর রহমান, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক প্রফেসর এস এম কামরুজ্জামান, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট পরিচালক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলম।

উদ্বোধনের পর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে সিনেট ভবন চত্বরে অতিথিরা বৃক্ষরোপণ করেন।

এরপর বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, প্রোভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম, প্রোভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। ভিসি প্রফেসর মো: ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ফাইসুল ইসলাম ফারুকী এবং প্রধান আলোচক ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর মো: রফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় ইতিবাচক অবদানের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তিনি ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তৎকালীন আইন পরিষদ সদস্য মাদার বখশ, সিরাজগঞ্জের রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

মন্ত্রী আরো ঘোষণা দেন, তার মরহুম বাবা ফজলার রহমানের স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদানের জন্য একটি পদক চালুর লক্ষ্যে অর্থসহায়তা প্রদান করবেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।