মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ঘুচবে ফেনীবাসীর দুর্ভোগ

Printed Edition

ফেনী অফিস

ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প গত ১৬ জুন একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুনে বাস্তবায়িত হবে। দুর্নীতি এড়াতে প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর তদারকিতে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পর প্রকল্পটির গুরুত্ব অরো বৃদ্ধি পায়। ২০২৪ সালের বন্যায় ফেনীর নদীগুলোতে অতিরিক্ত পলি জমে পানিপ্রবাহ কমে যায় এবং বাঁধগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতি ভারী বর্ষণে প্রতিবছর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও সদর উপজেলা বন্যা কবলিত হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ শক্তিশালীকরণ, নদী পুনঃখনন ও পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, প্রকল্পের আওতায় বাঁধ সংস্কার, নদী পুনঃখনন ও এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের কৃষি, সেচ ব্যবস্থা ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, এটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি মাইলফলক। পরশুরাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু তালেব জানান, ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই প্রকল্পের উদ্বোধন করলেও পরে বরাদ্দ মেলেনি। দীর্ঘ ২০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এটি অনুমোদন দেয়ায় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি ও রেহানা আক্তার রানুসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু বলেন, এই বাঁধ নির্মিত হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ সুফল পাবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এটি পর্যটনের অপার সম্ভাবনা উন্মোচন করবে। সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, প্রকল্পটি জনপদের দুর্ভোগ লাঘব ও উন্নয়নের মাইলফলক হয়ে থাকবে।