বিশেষ সংবাদদাতা
সিইসিকে আমরা বলেছি এমন কোনো চিঠি বা সার্কুলার আপনারা হুট করে দেবেন না। যেটা নিয়ে আমাদের এবং দেশবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। বার বার ইসিতে আসতে হয় এমন কিছু না করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। আর এনসিপির আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন, প্রশাসনিক রদবদল একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সবার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষভাবে হওয়ার কথা ছিল। সেটা আমরা দেখছি যে একটি দলকে হয়তো একটু বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। মাঠ প্রশাসন একটি দলের পক্ষে কাজ করছে।
আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে গতকাল সোমবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও অভিযোগ দায়ের করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধিরা। ছিলেন এনসিপির নির্বাচনী মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া।
মোবাইল ফোন কেন্দ্রে ব্যবহার নিয়ে:
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ইসির নির্দেশনা দেখলাম যে নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো মোবাইল ইউজ করা যাবে না। কেউ মোবাইল বহন করতে পারবেন না। শুধু সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী বা নির্বাচন কমিশনের সাথে যারা আছেন তারা ছাড়া কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। এটা জানার পর স্বাভাবিকভাবেই সর্বপর্যায়ে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা দেখতে পাচ্ছি। যেখানে আমরা আশা করছি, সুন্দর শান্তিপূর্ণ হবে। প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবার বলে আসছেন যে ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর শান্তিপূর্ণ গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে, সেখানে এই ধরনের একটি ঘোষণা সবাইকে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সাথে এসে কথা বলেছি। তারা বলেছেন যে অলরেডি এটা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। যেকোনো সময় চিঠি দিয়ে জানাবেন। আমরা বলেছি আমরা এখন উদ্বেগের মধ্যে আছি। তারা বলছেন আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি। এটা প্রত্যাহার হবে। আমরা বলেছি যদি এটা প্রত্যাহার না হয় তাহলে আমাদেরকে কঠোর কর্মসূচির দিকে নিয়ে যেতে হবে। তো আমাদেরকে তারা আশ্বস্ত করেছেন যে এটা অলরেডি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এই সমস্যা থাকবে না।
জুবায়ের বলেন, কমিশন আমাদের বলেছে, মোবাইল নিয়ে একজন ব্যক্তি যেতে পারবেন। তবে মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা রেস্ট্রিকশন আছে। ভোট কেন্দ্রের ভিতরে একটা নির্দেশনা তাদের পক্ষ থেকে দেয়া হবে। আমরা বলেছি এই বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হওয়া উচিত। কারণ দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন সময় ইলেকশন কমিশন বলেন। কিন্তু সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন বক্তব্য দেন। বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা তারা দেন। এই ধরনের ভিন্ন এক্সপ্লেনেশনের কারণে সেখানে জটিলতা তৈরি হয়। আমরা চাই না যে নির্বাচনের দিন কোনো অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা সেখানে না ঘটে।
বিএনসিসিকে নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া:
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, প্রতি ইলেকশনেই বিএনসিসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা সহকারী বা সহযোগী ফোর্স হিসেবে কাজ করেন। এ ব্যাপারে আরপিওতে কিছু বিষয় আছে। তারপরও চূড়ান্তভাবে তারা না করেন নাই। এটাকে তারা কিভাবে করা যায় তারা সে বিষয়টি ভাববেন। আমরা এটা যে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দু’টো নির্বাচন এখানে একসাথে হবে। গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যেহেতু জনগণের ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে এবং গত তিনটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারার কারণে মানুষের স্বাভাবিকভাবে আবেগ আগ্রহ এবং উৎসাহ বেশি থাকবে। এজন্য যত বেশি পারা যায় সাপোর্টিং এসব ফোর্সকে দেয়া উচিত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগের :
জামায়াত নেতা জুবায়ের বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। খুলনার ডিআইজির ব্যাপারে বলেছি। নাটোরের এসপির শরীয়তপুরের এসপির কথা বলেছি। আরো কয়েকজনের কথা আমরা তাদের বলেছি। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের পক্ষ থেকে যে ভূমিকা রাখা হচ্ছে সেটা কোনো অবস্থায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অনুকূল নয়। এদেরকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া এবং প্রয়োজনে এদেরকে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথা এসব এলাকায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তিনি বলেন, আমরা গতকালকে আপনাদেরকে বলেছিলাম যে পটুয়াখালীর বাউফলে ওসির কথা। তাকে প্রত্যাহার করেছেন। আমরা ঢাকা-১৫ আসনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্বশীল ও আমাদের শীর্ষ নেতারা যেখানে ইলেকশন করছেন সে সব আসনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনে নির্দেশনা দেয়া। তারপরে নির্বাচন কমিশনে যারা আছেন তাদেরকে নিয়মিত তত্ত্বাবধান করা।
মাঠ প্রশাসন যেন এক ভাষায় কথা বলেন:
১১ দলীয় ঐক্যের নেতা বলেন, রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার বা আরো যারা আছেন তারা যাতে একই ভাষায় কথা বলেন। তিনি বলেন, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ইলেকশন করছেন, নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, সেখানে একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক নির্বাচনে কাজ করতে কোনো অসুবিধা নাই। যদি তিনি নির্বাচনের কাজে সম্পৃক্ত না থাকেন তাহলে তিনি নির্বাচনে কাজ করতে পারবেন।
ফ্যাসিস্টের মতো ইন্টারনেট স্লো না করা:
জুবায়ের বলেন, ইন্টারনেট স্লো করার ব্যাপারে বাজারে কথাটা উঠেছে। ইন্টারনেট স্লো হয়ে যাবে অথবা অফ করবে। উনারা বলেছেন এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না। আমরা বলছি আমরা যাতে এটা আবার দেখতে না পাই যে আপনারা কালকে আরেকটা চিঠি বা সার্কুলার দিয়ে দিয়েছেন। ইন্টারনেট বন্ধ করা ফ্যাসিবাদের কার্যক্রম ছিল। আমরা যাতে এগুলো সামনে দেখতে না পাই। তারা আমাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন মোবাইলের ব্যাপার ইন্টারনেটের ব্যাপার এজন্য কোনো নির্দেশনা তাদের পক্ষ থেকে যাবে না। তিনি বলেন, হুট করে একটা চিঠি দিলে এই যে অস্থিরতা তৈরি হয়। সন্দেহ সংশয় তৈরি হয়। মাত্র দুই আড়াই দিন বাকি, এখন যেন নতুন কিছু না ঘটে। এটা আপনাদেরকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
মাঠ প্রশাসন কিছু অস্বাভাবিক আচরণ করছেন:
আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়া বলেন, একটা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করার জন্য নির্বাচন কমিশন এবং সরকারকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আমরা ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতাটা করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের বিষয়ে সারপ্রাইজ কোনো সিদ্ধান্ত যদি সামনে না আসে তাহলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে হয়তো আমরা যেতে পারব। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়েও দেখেছেন যে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীকে শোকোজ করলে সাথে সাথে ওই দিন বা পরের দিনের মধ্যে অফিসার সেখান থেকে উইথড্র হয়ে যাচ্ছেন। আমরা কিছু জায়গায় দেখেছি কিছু কর্মকর্তা নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সেটা পুলিশে আছেন জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা আছেন। মাঠ পর্যায়ে তারা কিছু অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তারা অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নির্দিষ্ট কোনো দলে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপকে তারা কল দিচ্ছেন। তারা কল দিয়ে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। তার প্রেক্ষিতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে কিছু স্পেসিফিক অফিসারদের অপসারণ এবং পরিবর্তনের বিষয়ে বলেছি। আমাদের আরেকটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটা হচ্ছে যখন আমাদের প্রার্থীরা বিভিন্ন অফিসারদের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনে সেটার আর কোনো রিপ্লাই আসলে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নির্বাচন কমিশনে অবশ্যই এ বিষয়ে একটা টাস্ক ফোর্স থাকা প্রয়োজন ছিল। যে যে অভিযোগগুলো আসবে সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা। একটা রিপ্লাই করা যে, এটা হচ্ছে বা হচ্ছে না। যেটাই হোক সেটা রিপ্লাই করা। আমরা দেখেছি যে নির্বাচন কমিশনের এ ক্ষেত্রে যারা পুলিশ প্রশাসন আছে, জনপ্রশাসন আছে, ইসি জানার সুযোগ নেই যে কোন অফিসারের ব্যাকট্র্যাক বা ব্যাকগ্রাউন্ড কি। সেই ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ বিষয়গুলোতে দ্রুত সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। যেটা আমরা পাই নাই। তিনি বলেন, আমরা স্পেসিফিক অনেকগুলো অভিযোগ এবং অনেকের ব্যাপারে আমরা বলে গেছি। আমরা আশা করি এ বিষয়ে দ্রুত একটা ফলাফল আমরা পাব।


