জিয়ো নিউজ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে কিছু গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছেন। তবে তার এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের আগের সরকারি গোয়েন্দা মূল্যায়নের সাথে সাংঘর্ষিক, যেখানে নির্বাচনের ফলাফলে চীনের কোনো প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রায় ২৫ মিনিটের দেয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন অবৈধভাবে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্যের মধ্যে ভোটারদের নাম, ঠিকানা এবং ভোটার নিবন্ধনের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখেছেন।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোলা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। গতকাল শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনে নাক গলানোর ব্যাপারে বেইজিংয়ের বিন্দুমাত্র কোনো আগ্রহ নেই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রশাসনের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলেন যে ‘যুক্তরাষ্ট্রের তোলা এই সব অভিযোগের কোনো বাস্তব বা তথ্যগত ভিত্তি নেই এবং এগুলো মূলত চীনকে আন্তর্জাতিক মহলে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হচ্ছে’। তিনি উল্লেখ করেন যে এর আগেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে এমন নানা অভিযোগ তোলা হয়েছিল, যা এরইমধ্যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
২০২১ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটার নিবন্ধন, ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা বা ফলাফল পরিবর্তনের জন্য কোনো বিদেশী শক্তি প্রযুক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেই মূল্যায়ন করা হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জন র্যাটক্লিফের নেতৃত্বে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প আবারো নির্বাচনী নিরাপত্তাকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন। রিপাবলিকানদের প্রতি তার আহ্বান, ভোট দিতে বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিধান চালু করতে হবে। যদিও দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন তদন্তে দেখা গেছে, দেশটির নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির ঘটনা খুবই বিরল।
ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে হোয়াইট হাউজের কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, চীন-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করলে তা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের চীনবিরোধী কঠোর বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন গত বছরের ব্যয়বহুল বাণিজ্যযুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বাণিজ্য সম্পর্কোন্নয়নের লক্ষ্যে বৈঠকের আশা করছেন ট্রাম্প।
অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। ‘২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। তিনি ডাকযোগে ভোট, ভোটিং মেশিন এবং অ-নাগরিকদের ভোট দেয়া নিয়েও নানা অভিযোগ তুলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালত এবং একাধিকবার ভোট পুনর্গণনার পরও বড় ধরনের কোনো জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।



