মর্গে ‘নারী ডোম’ নিয়োগ প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল : মহাস্থানগড় মামলার শুনানি মঙ্গলবার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর মর্গে নারীর লাশের ময়নাতদন্তে নারী কর্মী বা ‘নারী ডোম’ নিয়োগের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো: আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন। স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদিদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মৃত নারীর গোপনীয়তা ও মরণোত্তর মর্যাদা রক্ষা এবং ধর্মীয় বিধান বজায় রেখে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চেয়ে গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: মনির উদ্দিন এই রিটটি দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দীন মো: হানিফ।

রিট আবেদনে বলা হয়, ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী নারীর লাশ সতর বা পর্দার অন্তরালে রাখা আবশ্যক। ময়নাতদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও মৃত নারীর দেহে পরপুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি কাম্য নয়। এর আগে মর্গে পুরুষ ডোম দ্বারা মৃত নারীর লাশের ওপর বিকৃত যৌনাচারের মতো অনাকাক্সিক্ষত ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী মৃত্যুর পরও মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি। যুগের চাহিদার সাথে মিল রেখে মর্গে নারী কর্মী নিয়োগ করা হলে নারীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মৃত নারীদের সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষা পাবে। এর আগে গত ১৩ মে বিবাদিদের বরাবরে এই আবেদন জানিয়ে ফল না পাওয়ায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী মনির উদ্দিন এই রিটটি করেন।

মহাস্থানগড়ে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

এদিকে বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের সংরক্ষিত প্রতœতাত্ত্বিক এলাকায় সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ও মাটি খনন বন্ধ রাখাসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা লিভ টু আপিলের (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মহাস্থানগড়ের প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন নষ্ট করে অবৈধ দখল, মাজার সম্প্রসারণ ও খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের দাবিতে ২০১০ সালে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন, যাতে প্রতœতাত্ত্বিক এলাকার পূর্বপাশে ২০০ ফুট দূরে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৫ মার্চ হাইকোর্ট অপর এক আদেশে মহাস্থানগড়ে স্থানীয়দের মাটি খনন ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মোতায়েন করার নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের ওই রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে দীর্ঘ পাঁচ হাজার ২৭৯ দিন পর বিলম্ব মার্জনার আবেদনসহ চলতি মাসে লিভ টু আপিল করে সরকারপক্ষ, যাতে হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনও রয়েছে। গতকাল রোববার রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সরকারপক্ষের দাবি, হাইকোর্টের আদেশের ফলে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প ও সরকারি অর্থ বরাদ্দে পবিত্র মহাস্থানগড় মসজিদের উন্নয়নকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।