প্রযুক্তি ডেস্ক
ডিজিটাল দুনিয়ার হাতছানি থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে এবার আইনি পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জোটভুক্ত ২৭টি দেশের এই সম্মিলিত উদ্যোগ সফল হলে, তা হবে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা। মূলত শিশুদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই কঠোর আইনের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশন এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানিয়েছে, প্রযুক্তির অবাধ দুনিয়ায় শিশুদের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বন্ধ করা এর উদ্দেশ্য নয়; বরং মূল লক্ষ্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঠিক কত বছর বয়সে এবং কীভাবে আমাদের শিশুদের নাগাল পাবে, তা ঠিক করা। বর্তমান প্ল্যাটফর্মগুলোতে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় যে কেউ চাইলেই ছদ্মনামে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। নতুন আইনে এই বয়স-উপযোগী প্রবেশাধিকারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিনটাইম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ শিশুর সামাজিক বিকাশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে অনিদ্রা, মনোযোগের ঘাটতি থেকে শুরু কওে তীব্র বিষণœতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা। এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির থেকে পরিত্রাণ পেতেই শিশু বিশেষজ্ঞরা ইইউ কমিশনকে দ্রুত কঠোর কোনো পদক্ষেপে যাওয়ার সুপারিশ করেছেন।
আইনি এই প্রক্রিয়া যদি চূড়ান্ত রূপ পায়, তবে মেটা, টিকটক বা এক্স এর মতো টেক জায়ান্টদের জন্য ইউরোপের বাজারে ব্যবসা পরিচালনায় বিশাল পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বজুড়ে যেখানে শিশুদের ভার্চুয়াল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই নীতি আগামী দিনে বাকি বিশ্বের জন্যও একটি মাইলফলক বা দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।



