নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মহান আল্লাহ তায়ালা ও তার প্রিয় রাসূল হজরত মুহাম্মদ সা:-এর প্রদর্শিত জীবনাদর্শের বাইরে ইসলামে নতুন কোনো মতবাদ, বিশ্বাস কিংবা অনুশীলনের স্থান নেই। ধর্মীয় সব বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সা:-এর আদর্শের বাইরে নতুন কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা দেশের মুসলিম উম্মাহ কখনো মেনে নেবে না; ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘পবিত্র কালেমা খচিত পতাকার সম্মান রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক উলামায়ে কেরামের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ইসলামের পবিত্র নিদর্শন ও ধর্মীয় প্রতীকগুলোর মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। পবিত্র কালেমা খচিত পতাকা বা ইসলামের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অবমাননা কিংবা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়। এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের কারণ হতে পারে। তিনি আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, তরুণ সমাজ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভীর সভাপতিত্বে সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কওমি মাদ্রাসা, ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম, শায়খুল হাদিস, খতিব, মুফতি এবং বিশিষ্ট আলেম-ওলামা অংশ নেন। সভায় পবিত্র কালেমা খচিত পতাকার মর্যাদা সংরক্ষণ, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়করণ, ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ সমাজে প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব, মধুপুর), মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদ, অধ্যাপক মিজানুর রহমান (পীর সাহেব, দেওনা), মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি আজহারুল ইসলাম, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মুফতি শরিফ উল্লাহ, মুফতি ইমাদুদ্দিন, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা এজহারুল হক, মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুণবী, মাওলানা আহমদ রফিক প্রমুখ। মতবিনিময় শেষে একটি ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়। যা আজ শুক্রবার জুমার নামাজের আলোচনায় ইমাম-খতিবদের মুসল্লিদের সতর্ক করার আহবান জানানো হয়।



