২৪৬ গোলে শীর্ষেই রইল সেলেকাওরা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল আর জার্মানির প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু শিরোপা কিংবা সাফল্যের নয়, গোলের সংখ্যাতেও। এবারের আসরে দুই দলই যেন নীরব এক প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউটের শুরু পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই এক দলের গোলের জবাব দিচ্ছিল অন্য দল। কখনো ব্রাজিল আগে খেলেছে, কখনো জার্মানি। তবে সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াই আপাতত থেমে গেছে শেষ বত্রিশেই। আর তাতেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে আরো কিছু দিনের জন্য নিশ্চিন্ত থাকতে পারছে সেলেকাওরা।

হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। কাসেমিরো ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে পাওয়া এই জয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৬। ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরো মজবুত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্য দিকে জার্মানির সামনে ছিল ব্যবধান আরো কমিয়ে আনার সুযোগ। বিশ্বকাপে তাদের গোলসংখ্যা ছিল ২৪২। ব্রাজিলকে টপকে যেতে দরকার ছিল আরো পাঁচ গোল। প্রতিপক্ষ হিসেবে প্যারাগুয়েকে পাওয়ায় অনেকেই আশা করেছিলেন জার্মানরা অন্তত ব্যবধান কমাতে পারবে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয়নি।

বোস্টনে নাটকীয় ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। বিদায়ের আগে জার্মানি মূল ম্যাচে একটি গোল যোগ করলেও তাদের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২৪৩-এ। ফলে ব্রাজিলের সঙ্গে ব্যবধান তিন গোলেই থেকে যায়। নকআউট থেকে বিদায় নেয়ায় এবারের বিশ্বকাপে আর সেই ব্যবধান কমানোর সুযোগও থাকছে না জার্মানদের।

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা। তবে ব্রাজিল ও জার্মানির সঙ্গে তাদের ব্যবধান এখনো বিশাল। বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের মোট গোল ১৬০; অর্থাৎ ব্রাজিলকে স্পর্শ করতে হলে তাদের প্রয়োজন আরো ৮৬ গোল, যা চার-পাঁচ বিশ্বকাপে পূরণ হওয়া সম্ভব না।

চতুর্থ স্থানে থাকা ফ্রান্সের অবস্থানও খুব একটা কাছাকাছি নয়। ফরাসিদের বিশ্বকাপে মোট গোল ১৪৬। যদিও এবারের আসরে তারা ইতোমধ্যেই ১০ গোল করেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে চারটি করে গোল করে দলটির আক্রমণভাগকে উজ্জ্বল করে তুলেছেন। তবু ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে তারা এখনো অনেকটাই পিছিয়ে।

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মোট গোল ১২৮। কিন্তু এই পরিসংখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ হতাশার গল্প। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০১০ ও ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে আজ্জুরিদের। এরপর ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬-টানা তিনটি বিশ্বকাপেই জায়গা করে নিতে পারেনি তারা। ২০২১ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয় ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ইতালির সাফল্যের ঝুলিতে যোগ হয়নি তেমন কিছু।

মজার বিষয় হলো, এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করেও শেষ বত্রিশেই বিদায় নিয়েছে দুটি দল। জার্মানি ১১ গোল করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিল। একই সংখ্যক গোল করেছিল নেদারল্যান্ডসও। কিন্তু টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে জার্মানি ও মরক্কোর কাছে নেদারল্যান্ডস হেরে যাওয়ায় গোলের এই দৌড় থেকে ছিটকে গেছে।

আর্জেন্টিনার নকআউট অভিযান এখনো শুরু হয়নি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাদের শেষ বত্রিশের ম্যাচ বাকি। লিওনেল মেসির দুর্দান্ত ফর্মে এবারের আসরে আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই ৮ গোল করেছে, যার মধ্যে ছয়টিই এসেছে মেসির পা থেকে। তবে গোলের শীর্ষে যেতে তাদের অপেক্ষা করতে হবে যুগ যুগ।

ব্রাজিলও এবারের আসরে গোলসংখ্যা ৯। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র করেছেন চারটি গোল, আর জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে দলটি শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে। সামনে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ের বিপক্ষে নকআউট লড়াইয়ে গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে সেলেকাওদের।