রাজশাহী ব্যুরো
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও বাংলাদেশ আইন কমিশনের সাবেক সদস্য ড. এম. এনামুল হক ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল রোববার ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ড. এম. এনামুল হক কিডনি জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের বড় চাচা।
বিএনপির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্টে তার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
ড. এম. এনামুল হকের জন্ম রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায়। ১৯৬৪ সালে তিনি পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের আগে তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্ত্রী শিক্ষাবিদ ও লেখক অনামিকা হক লিলি। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।
ড. এম. এনামুল হকের বড় ভাই ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজশাহী-১ আসন থেকে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ওই আসনে ড. এম. এনামুল হককে প্রার্থী করেছিল।
এ ছাড়া সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে প্রার্থী ছিলেন ড. এম. এনামুল হকের আরেক ভাই মেজর জেনারেল (অব:) শরীফ উদ্দীন। বর্তমানে তিনি নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পারিবারিক কবরস্থানে সাবেক আইজিপি ড. এম. এনামুল হকের দাফন সম্পন্ন হবে।



