নয়া দিগন্ত ডেস্ক
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানান, ঢাকায় কর্মসূচিতে হামলা ও ছয় দফা দাবি না মানার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে এবার চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ নিয়ে দ্বিতীয় দিনে গড়াল আন্দোলন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নগরের ব্যস্ততম সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়ক ও বায়েজিদ বোস্তামী সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় ।
এর আগে একই দাবিতে বেলা আড়াইটার দিকে ২ নম্বর গেট এলাকার সড়কের একাংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সড়কের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাদের কেউ সড়কে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ বসে সেøাগান দিচ্ছেন। ফলে দু’টি সড়কেই যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।
এর আগে গত মঙ্গলবারও বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে দ্বিতীয় দিনেও সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ২টায় পরীক্ষার্থীরা রাস্তায় বের হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে দিনাজপুর শহরের ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেল ক্রসিং এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। এতে দিনাজপুরের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশ নেন। সড়ক অবরোধে কারণে উভয় পাশে যাত্রাবাহী বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গোটা শহরে তিব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সড়ক ও রেলপথ অবরোধ চলাকালীন সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভারে গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজার ইউটার্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে এইচএসসি ব্যাচ-২০২৬ এর উদ্যোগে পৌনে ২টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত নবীনগরগামী লেন এবং পৌনে ৩টা থেকে সোয়া ৩টা পর্যন্ত ঢাকাগামী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। অবরোধের কারণে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এ সময় কয়েক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করেই গোপালগঞ্জে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলেও আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। তারা বুধবার দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেন এবং টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন সেøাগান দেন।
আন্দোলনে কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজ, মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়, ভাসানী আদর্শ কলেজ ও বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় তাদের অভিভাবকরাও অংশ নেন।
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, ‘শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না, চলবে না’, ‘এক, দুই, তিন, চার শিক্ষামন্ত্রী গদি ছাড়’, এমন নানা সেøাগানে মুখরিত করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনা চত্বর এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বেলা দেড়টা থেকে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চৌমুহনা চত্বর অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন সেøাগান দেন এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনা এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। শহরের মৌলভীবাজার রোড ও হবিগঞ্জ সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে চলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।



