মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর

Printed Edition

মিডল ইস্ট আই

চলতি সঙ্ঘাত সহজে থামছে না এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট আভাস দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত মঙ্গলবার টেলিভিশন ‘চ্যানেল ১৪ নিউজ’-কে দেয়া এক বিশেষ ও দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ওই চ্যানেলে যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন। গাজা, সিরিয়া ও লেবাননে সেনা উপস্থিতি এবং হামাস-হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের অপসারণের বিষয়টি টেনে তিনি একে অভূতপূর্ব সাফল্য বলে দাবি করেন। এ ছাড়া ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ৪৭ বছর ধরে যে ভয়ের দেয়াল ছিল, তা ভেঙে দেয়া হয়েছে। গাজায় আগ্রাসনের শুরুতে ঘোষিত ‘নিশ্চিত বিজয়’ এখনো সম্ভব কি না- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর কোনো সমাপ্তি নেই। সাক্ষাৎকারে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি একে ‘স্বেচ্ছায় দেশান্তর’ বলে উল্লেখ করেন এবং সেখানে নতুন করে ইহুদি বসতি গড়ার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে কেবল কাজ করার ওপর জোর দেন।

তরুণ প্রজন্মের মাঝে বর্ণবাদের বিস্তার

গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরুর পর এবারই প্রথম ইসরাইলি শিক্ষার্থীরা আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। তবে ইসরাইলের দৈনিক ‘হারেৎস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এবারের স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েট হওয়া তরুণরা আগের চেয়ে অনেক বেশি বর্ণবাদী মানসিকতার দিকে ঝুঁকছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব জরিপ অনুসারে, ২০২৫ সালের মধ্যে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যারা ফিলিস্তিনিদের মতো কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সমাজের অংশ হিসেবে মেনে নিতে রাজি নয়। পরিসংখ্যান বলছে, ইসরাইলের ধর্মীয় ঘরানার স্কুলগুলোর ৫২ শতাংশ এবং সাধারণ ধর্মনিরপেক্ষ স্কুলগুলোর ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এই উগ্র ধারণাকে সমর্থন করছে। এমনকি আরবি ভাষার স্কুলগুলোতেও এই হার ৩৪ শতাংশ। শিক্ষাবিদ ও যুব সংগঠকদের মতে, ইহুদি তরুণদের মধ্যে একদিকে যেমন আরবদের নিয়ে ভীতি ও তীব্র জাতীয়তাবাদী আবেগ কাজ করছে, অন্য দিকে নিজ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর থেকেও তাদের ভরসা ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকরা জানান, এই তরুণরা ফিলিস্তিনের সাথে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমাধান বা শান্তির পথ আর বিশ্বাস করে না।