সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
আসছে বছরের শুরুতে উন্মুক্ত হতে পারে শাহবাগ শিশু পার্ক। দীর্ঘ ৭ বছরে পার্কের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আরো ৩৫ শতাংশ কাজ শেষে আগামী বছরের প্রথম দিকে এটি উন্মুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দেশের প্রথম ও ঐতিহ্যবাহী এ বিনোদন কেন্দ্র ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের স্বার্থে পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। তবে এক বছরের মধ্যে এটি চালুর কথা থাকলেও একাধিক সরকারি সমন্বয়হীনতা ও রাইড ক্রয়ের জটিলতায় ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসেও পার্কটি খোলেনি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকার লাখ লাখ শিশু তাদের সবচেয়ে পছন্দের এবং সুলভমূল্যের বিনোদন কেন্দ্রটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে পার্কের সিভিল বা মূল অবকাঠামোগত কাজের প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। পার্কের ভেতরে নতুন প্রশাসনিক ভবন, আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া, টয়লেট কমপ্লেক্স এবং দৃষ্টিনন্দন স্টিল-গ্লাসের ছাদযুক্ত ওয়েটিং শেড নির্মাণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পার্কের নিচে নির্মিত আন্ডারগ্রাউন্ড গাড়ি পার্কিং এবং আন্ডারপাসের মূল কাজ শেষ হয়েছে।
নতুন নির্মাণে পার্কের আইকনিক সেই পুরনো ট্রেন, চরকা বা লড়ঝড়ে বিমানসহ সব জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ রাইড অনেক আগেই সম্পূর্ণ ভেঙে অপসারণ করা হয়েছে। তবে নতুন রাইড না আসায় পার্কের ভেতরের বড় অংশ এখনো ফাঁকা পড়ে আছে। তাই পার্কটি চালু করার পেছনে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন রাইড আমদানি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্কটির আধুনিকায়নে ১৫টি বিশ্বমানের রাইড (যেমন- আধুনিক রোলার কোস্টার, থ্রিডি থিয়েটার, বাম্পার কার ও নতুন ট্রেন) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রাইডের কারিগরি স্পেসিফিকেশন পরিবর্তন, ডলার সঙ্কট এবং পুনর্নিয়োগকৃত দরপত্র জটিলতার কারণে বিদেশ থেকে রাইড আমদানির প্রক্রিয়াটি বারবার ঝুলে গেছে। ২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পার্কটির নাম পুনরায় এর আগের নাম ‘শহীদ জিয়া শিশু পার্ক’- করা হয়েছে। তবে নাম ফিরলেও রাইড আসায় গতি মেলেনি।
ডিএসসিসি সূত্রের সর্বশেষ তথ্যমতে, রাইড কেনার জন্য নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়া চূড়ান্তে কাজ চলছে। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমদানিকৃত রাইডগুলো দেশে এসে পৌঁছালে, কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা ২০২৭ সালের শুরুতে পার্কটি শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারবে বলে আশা করছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পার্কের সামনে একটি বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়ে এটি বন্ধ ঘোষণা করেছিল ডিএসসিসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শিশু পার্কের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন থাকায় অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শিশু পার্ক সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওই প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়ে ২০১৯ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। একই সময়ের মধ্যে শিশুপার্কের নিচে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগতদের গাড়ি পার্কিং ও কিছু অবকাঠামো সংস্কারকাজ শেষে এটি খুলে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এই সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানো হলেও তা আজও শেষ হয়নি।



