দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল, তার প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ইরান যেভাবে সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে, তাতে চরম বিস্ময় তৈরি হয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মহলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবি করলেও যুদ্ধের মূল পর্ব শেষের চার মাসের মাথায় তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণাত্মক সামরিক অবকাঠামো দ্রুত পুনরুদ্ধারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সিউল ও ওয়াশিংটন।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘জেরুসালেম পোস্ট’-এর সাম্প্রতিক এক খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের সামরিক বাহিনীর ঘুরে দাঁড়ানোর গতি ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) ও মোসাদের প্রাথমিক অনুমানকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত করেছে। বিশেষ করে জুনের শুরুতে ইসরাইল অভিমুখী হামলা জোরদার করা, জুলাইয়ের শুরুতে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সামরিক অবস্থানে নতুন করে হামলা চালানো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নৌপথে কড়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার মতো ঘটনা তেহরানের পুনরুত্থানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ইসরাইলি গোয়েন্দাদের হিসেব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ অভিযানের সময় ইরানের হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ছিল আনুমানিক এক হাজার ৩০০টি, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় দুই হাজার ৫০০-এ। আইডিএফের দাবি ছিল, প্রায় ৪০ দিনের টানা যুদ্ধে দুই হাজার ৬০০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় ধ্বংসলীলা চালিয়ে ইরানের অস্ত্র তৈরি প্রযুক্তি বহুবছর পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ভূগর্ভস্থ ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’গুলোর প্রবেশপথ দ্রুত উন্মুক্ত করা এবং গোপন কৌশল কাজে লাগিয়ে ইরানের পুনরায় পুরোদমে অস্ত্র উৎপাদন শুরু করার বিষয়টি ইসরাইলকে ভাবিয়ে তুলেছে।
একইসাথে মার্কিন গোয়েন্দা মহলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনএনের এক খবরে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, নভেম্বরের মধ্যে ড্রোন সক্ষমতা পুনর্গঠনের যে সময়সীমা আগে ধরা হয়েছিল, ইরান তার বহু আগেই উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিজস্ব অত্যাধুনিক ‘এটিএসিএমএস’ ও লং-রেঞ্জ প্রেসিশন মিসাইলের মজুদ ব্যাপকহারে কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আবারো বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। ইরানের বিরুদ্ধে বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতির দাবি বজায় রেখে আইডিএফ জানিয়েছে, তারা তেহরানের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সে অনুযায়ী তাদের কৌশল হালনাগাদ করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার এই দ্রুত প্রত্যাবর্তন তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের সামরিক সমীকরণকে নতুন করে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।



