চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, বিমান বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৪০% রেয়াতি ট্যারিফ নির্ধারণ, লং রুট ফ্লাইটের বিরতির ক্ষেত্রে যাত্রী নেয়া ও নামানোর সুবিধা প্রদান, ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে লং হল ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসাথে বিমান বন্দরসংলগ্ন এলাকায় কার্গো ভিলেজ ও আইসিডি/সিএফএস স্থাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপির কাছে এক জরুরি পত্র প্রেরণ করেছেন। শনিবার প্রেরিত পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনে ব্যবসায়ীরা পিপিপি বা বিওও বা বিওওটি পদ্ধতির আওতায় উক্ত অবকাঠামো সুবিধা নির্মাণে সক্ষম এবং আগ্রহী।
চেম্বার সভাপতি বলেন- ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা এবং চট্টগ্রামকে রিজিওনাল বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের যে স্বপ্ন ও পরিকল্পনা তা বাস্তবায়নে সর্বদা ব্যবসায়ীদের অকুন্ঠ সমর্থন ও সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে। তিনি বলেন- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর, বৃহৎ পাইকারি বাজার, একাধিক বৃহৎ রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ শিল্প-কারখানা এই অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় চট্টগ্রাম দেশের অতীব গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত। কিন্তু দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রয়োজনীয় প্রায় সব অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও চলমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবেচনায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতার ব্যবহার আজ পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। অথচ বর্তমান সক্ষমতায় আরো অধিক যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং, ট্রানজিট এবং কানেক্টিং ট্রাফিক আকর্ষণের সুযোগ এই বিমানবন্দরের রয়েছে। সর্বোপরি, ঢাকা কেন্দ্রিক এভিয়েশন ট্রাফিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও চাপ কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে ইস্ট-ওয়েস্ট এভিয়েশন এবং টুরিজম অ্যান্ড লজিস্টিকস গেটওয়ে বা ব্রিজিং পয়েন্ট হিসেবে পরিণত করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে উদাহরণ টেনে চেম্বার সভাপতি বলেন- মোংলা বন্দরের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও এর সক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার মোংলা বন্দরের স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্ল্যানে চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় হ্রাসকৃত ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে। তাই, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও অধিক ট্রাফিক আকর্ষণ করে পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে এর জন্যও প্রণোদনামূলক বা রেয়াতি ট্যারিফ নির্ধারণ করা জরুরি বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন।



