নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি তদন্তাধীন মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) শেখ মামুন খালেদ। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলায় এখন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু তদন্ত শেষ না হওয়ায় আরো সময় চাওয়া হয়। এ ছাড়া আসামিপক্ষ থেকে দেয়া জামিন আবেদন নিয়েও শুনানির কথা ছিল। কিন্তু পূর্ণ বেঞ্চ না থাকায় নতুন তারিখ ধার্য করা হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, তারেক আবদুল্লাহ, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
মামুন খালেদের আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ ইমন বলেন, ২৪ আগস্ট আমরা শেখ মামুন খালেদের পক্ষে একটি জামিন আবেদন করেছিলাম। শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু একজন বিচারক থাকায় শুনানি হয়নি। এ জন্য ৬ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন পূর্ণ বেঞ্চে শুনানি হলে জামিন পাওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী। এর আগে, ১৩ এপ্রিল এ মামলায় মামুন খালেদকে গ্রেফতার দেখানোর পাশাপাশি দু’দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল-২। চলতি বছরের ২৫ মার্চ রাতে মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেফতার হন মামুন খালেদ। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
ঘুম থেকে তুলে নিয়ে টিপুকে ক্রসফায়ার দেয়া হয়
এ দিকে ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে মোছা: সেলিনা বেগমের বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার। সেদিন রাতে ডিবি পরিচয়ে টিপুকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর এক দিন পরই টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার খবর পান সেলিনা বেগম।
বরিশালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ গতকাল মঙ্গলবার সাক্ষী হিসেবে সেলিনা বেগম এ কথা বলেন। সেলিনা বেগমের ভাগনির স্বামী টিপু হাওলাদার। ২০১১ সালে সাক্ষীর ভাগনির সাথে টিপুর বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়।
জবানবন্দীতে সেলিনা বেগম বলেন, টিপু হাওলাদার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরের বাড়িতে আসেন টিপু হাওলাদার। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তার বাসায় ডিবি পুলিশ আসে। তারা জিজ্ঞাসা করলে আসা লোকজন জানান যে তারা বরিশাল থেকে এসেছেন এবং তাদের সাথে ঢাকার কিছু লোক আছেন। তারা টিপুকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান।
সাক্ষী সেলিনা আরো বলেন, এ ঘটনার সময় তিনি চিৎকার করেন। তখন পাশের বাসা থেকে নাহার বেগম নামে একজন প্রতিবেশী এগিয়ে আসেন। তারা দু’জন টিপুকে যে স্থানে গাড়িতে তোলা হয়, সে পর্যন্ত যান। সে রাতেই ভাগনিকে ফোন দিয়ে তিনি ঘটনা জানান। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনে দেখেন টিপু ও কবির নামে দু’জন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তার ভাগনির কাছে তিনি শুনেছেন, অন্য থানার দু’জন পুলিশ টিপুকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করেছেন।
এ মামলায় চারজন আসামি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অপর দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো: মাহাবুল ইসলাম ও মো: জসিম উদ্দিন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।



