আবারো বিমানে মিললো ১৯ কেজি সোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
  • ৪ মাসে উদ্ধার ৩৭ কেজি
  • নেপথ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট থেকে বড় ধরনের সোনার চালান উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দুবাই থেকে আসা বিজি-১৪৮ ফ্লাইটের কার্গো হোল থেকে প্রায় ১৯ কেজি (১৮.৭২০ কেজি) ওজনের ১৬০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এই সোনার বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল সাড়ে ১০টায় দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আসা বিমানটির কার্গো হোলে তল্লাশি চালানো হয়। ডিজিএফআই, এভিয়েশন সিকিউরিটি এবং কাস্টমস হাউজের একটি সমন্বিত টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। তল্লাশির এক পর্যায়ে কার্গো কম্পার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ একটি প্যানেলের ভেতরে কালো টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৬০টি সোনার বার পাওয়া যায়। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

গত ২৮ মার্চ তারিখেও ঠিক একইভাবে দুবাই থেকে আসা বিমানের অন্য একটি ফ্লাইট (বিজি-৩৪৮) থেকে ১৫৩টি সোনার বার (১৭.৭৮৪ কেজি) উদ্ধার করা হয়েছিল। সে সময় স্বর্ণগুলো বিমানের টয়লেটের ভেতরে একটি প্যানেলের মধ্যে লুকানো ছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বিমানের কার্গো এবং টয়লেট প্যানেল ব্যবহার করে প্রায় ৩৭ কেজি সোনার এই বিশাল অবৈধ কারবার বিমানের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের উপস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিমানের যান্ত্রিক বা কারিগরি জ্ঞান ছাড়া অত্যন্ত গোপন প্যানেলে এভাবে সোনা লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। গত মার্চের ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে বিমানের তিন প্রকৌশল বিভাগের কর্মী মেকানিক নূর ইসলাম, আবুল হোসেন এবং হেলপার মিজানুর রহমানের মোবাইলফোনে চোরাচালান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিমানের ভেতরে এবং বাইরে একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে যারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ছিদ্রগুলো খুব ভালোভাবেই জানে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাংলাদেশে বর্তমানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে স্বর্ণ আমদানির কোনো নির্দিষ্ট সহজ নীতিমালা না থাকা এবং উচ্চ শুল্ক হারের কারণে অবৈধ পথে স্বর্ণ আনা হচ্ছে। এসব স্বর্ণের একটি বড় অংশ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, চোরাচালান রোধে এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। তারা বলছেন, বিমানের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ফ্লাইটে বারবার স্বর্ণের বড় চালান ধরা পড়া কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে সঙ্কটে ফেলছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এবার কেবল বাহক নয়, বরং নেপথ্যে থাকা গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।