ইউটিএলের বিবৃতি

যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে ভিসি অপসারণ রীতি ও শিষ্টাচার পরিপন্থী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্ববর্তী সময়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক যোগ্যতা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভিসি নিয়োগ দেয়া হলেও বর্তমান বিএনপি সরকার আট বিশ^বিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগে কোনো পূর্ব-আলোচনা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় উদ্বেগ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। সংগঠনটি মনে করছে সাম্প্রতিক সময়ের ভিসি নিয়োগের এই প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক রীতি ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

এক বিবৃতিতে ইউটিএল নেতারা বলেন, থ‘অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের আকস্মিকভাবে পরিবর্তনের ঘটনা আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি। কেন এবং কী প্রেক্ষাপটে রাতারাতি বর্তমান ভিসিদের নিয়োগ বাতিল করে নতুনদের নিয়োগ দেয়া হলো, তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সাথে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত বিরল এবং শিষ্টাচার পরিপন্থী। তারা আরো বলেন, ‘সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা শিক্ষক এবং গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রতি অসম্মানজনক। পূর্ববর্তী সময়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক যোগ্যতা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভিসি নিয়োগ দেয়া হলেও বর্তমান ভিসিদের সাথে কোনো পূর্ব-আলোচনা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের অপসারণ করা হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক রীতি ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী।’

ইউটিএল নেতারা বলেন, ‘একজন শিক্ষক তার পেশাজীবনের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে ভিসির পদ অলংকৃত করেন। অথচ যথাযথ সৌজন্য ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে দায়িত্বরত অবস্থায় নতুন ভিসি নিয়োগ দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরায়ত শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। তারা উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে; বিশেষত ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের আওতার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসিরা সাধারণত চার বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই মেয়াদে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। এইভাবে আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ভিসি নিয়োগ সরকারের একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ হলেও এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম, শালীনতা ও একাডেমিক সংস্কৃতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সুশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার যদি একতরফাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদে ইচ্ছামতো কাউকে অব্যাহতি অথবা দলীয় বিবেচনায় কাউকে নিয়োগ দেয়, তবে তা দেশের উচ্চশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে কেবল ব্যাহতই করবে না- একই সাথে একাডেমিয়াতে প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।