জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক : ঢাবি ভিসি

Printed Edition
ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বক্তৃতা করেন ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম  : নয়া দিগন্ত
ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বক্তৃতা করেন ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম : নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ইতিহাস বারবার সাক্ষ্য দেয় যে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অস্বীকার করে এবং শাসনের নামে দমন-পীড়ন ও শোষণ চালিয়ে কোনো সরকার বা শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। জনগণের আকাক্সক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করলে একসময় সেই শাসনব্যবস্থাকে ইতিহাসের কঠোর বিচারের মুখোমুখি হতেই হয়।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। মূল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন বেপারী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃৃতিচারণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সাথে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও দৃষ্টিশক্তি হারানো আন্দোলনকারীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ভিসি বলেন, অহঙ্কার ও মতার অপব্যবহার কখনো স্থায়ী হয় না। বিশ্বের ইতিহাসে বহু স্বৈরশাসকের পতন ঘটেছে। জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালানো কোনো শাসনব্যবস্থাও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাও সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতারই প্রতিফলন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কিংবা পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন স্বৈরশাসনের পতনের মধ্য দিয়ে বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে শাসনের নামে শোষণ, জনগণের মতামতকে অবজ্ঞা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করার পরিণতি কখনো শুভ হয় না।

অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নিজের দেশের জনগণের ওপর দমন-পীড়ন ও প্রাণহানি ঘটানো যে কোনো রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কলঙ্কজনক। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর যে সহিংসতা সঙ্ঘটিত হয়েছিল, তা জাতির ইতিহাসে গভীর বেদনার অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ক্ষমতায় থাকার অতি আকাক্সক্ষা, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব না দেয়া, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করা এবং নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড একটি রাষ্ট্রকে সঙ্কটের দিকে ঠেলে দেয়। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের মতামত, ভিন্নমত এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিকল্প নেই। বিজ্ঞপ্তি।