সংসদে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ঢোকার পর মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, শিরকের কাছে চলে যায় বলে উল্লেখ করেছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

পয়েন্ট অব অর্ডারে মুজিবুর রহমান বলেন, কার্যপ্রণালী বিধিতে সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে ঢোকার কথা। এটা নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা হয়েছে, আমিও ছিলাম অতিথি। শেষ পর্যন্ত একটা সংশোধনীর ভেতরে আছে, সেটা হচ্ছে ঝুঁকিয়ে মাথা সম্মান প্রদর্শন করার ব্যাপারটা। এটা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, শিরকের কাছে চলে যায়। সেজন্য এটাকে বাদ দেয়া হয়েছে।

স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি মাঝে মধ্যে খেয়াল করি সুন্দরভাবে আপনি সালাম দেন, আমরাও সালামের জবাব দেই। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে দেখা যায়, ওই আগের ঝুঁকুনিটা এখনো আছে। আপনারাও আছেন, ডেপুটি স্পিকারও আছেন। সেজন্য আমি অনুরোধ করি কার্যপ্রণালী বিধিতে শিরককে উৎখাত করার জন্য যে বিধি করা হয়েছে, আমার মনে হয় সেটা সবার মেনে চলা উচিত। এতে নেকি হবে। গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে। কালকে আমরা এটার উপকার লাভ করব।

এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি রুলস অব প্রসিডিউর দেখলাম। তারপর এ বিষয়ে.. এটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, কেউ সালাম দেবেন, কেউ ইয়ে করবে। সারা পৃথিবীতে রেওয়াজ আছে। তাও আমি দেখব যে, বিগত সংসদে এটা বাতিল করা হয়েছে কি না? এটা দেখে পরে আমি জানাব।

জাতীয় সংসদে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক বলে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো: নুরুল আমীন। তিনি বলেন, মুজিবুর রহমান সাহেব যেটা বলেছেন, সেটা ভ্যালিড। তিনি দেখেছেন যে আমরা মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছি। এটা তার পছন্দ হয়নি। সে কারণেই তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

বাজেট বক্তৃতা : সংসদে গতকাল প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্য শরিফুল আলম, নজরুল ইসলাম আজাদ, আবুল কওসার নজরুল ইসলাম, ইলিয়াস মোল্লা, ফখরুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, অধ্যাপক মোক্তার আলী, জেবা আমিন খান, আল ফারুক আব্দুল লতিফ, ফাহমিদা হক, রায়হান সিরাজী, ফাহিমা নাসরিন, সাজেদা সামাদ, তানজিলা জেবরিন, নীপুন রায়, সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, সুরাইয়া জেরিন, রোকেয়া সুলতানা, আবুল হাসান, মানসুরা আক্তার, এ জেড এম রেজওয়ানুল হক প্রমুখ।