দুই বিভাগেই সমান কার্যকর মিরাজ

Printed Edition
ফিফটি করার পর বাংলাদেশের ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজ : বিসিবি
ফিফটি করার পর বাংলাদেশের ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজ : বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার ২১৯ উইকেট। ব্যাট হাতে করেছেন ২ হাজার ২৯৬ রান। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন এক বিরল অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে দুই বিভাগেই সমান কার্যকর। বিশ্ব ক্রিকেটে অভিষেকের পর টেস্টে ২ হাজারের বেশি রান এবং ২০০-এর বেশি উইকেট নেয়ার কীর্তি রয়েছে কেবল ভারতের রবীন্দ্র জাদেজার।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের বড় লিডের নেপথ্যে মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট। দলের স্কোর ৫ উইকেটে ৩০৬ থেকে ৬ উইকেটে ৩০৮-মাত্র দুই রানে দুই উইকেট হারানোর পর যখন বাংলাদেশকে টেনে নেয়ার প্রয়োজন, তখনই দায়িত্ব নেন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত ১৫৪ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলে শুধু দলের লিড দুই শ’ ছাড়াননি, নিজের নামও লিখিয়েছেন টেস্ট ইতিহাসের রেকর্ড বইয়ে!

সাত কিংবা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন মিরাজের। লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে এমন পরিস্থিতিতে তার ৬৫ রান হয়ে উঠেছে দলের জন্য বিশেষ মূল্যবান, কারণ ইনিংসের ওই পর্যায়ে বাংলাদেশ দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল। শেষ দিকের ব্যাটারদের সাথে নিয়ে মিরাজের প্রতিরোধই শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের লিডকে ২২৮ রানে নিয়ে যায়।

ডারউইনে মিরাজের ৬৫ রানের মূল্য তাই শুধু স্কোরকার্ডের একটি সংখ্যা নয়। এটি বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং সক্ষমতারও প্রতিচ্ছবি। দ্রুত উইকেট হারানোর পরও পরিস্থিতি সামলে নিয়ে মিরাজ দেখিয়েছেন, তিনি এখন আর শুধু দলের প্রধান স্পিনার নন; প্রয়োজনের মুহূর্তে ব্যাট হাতে ইনিংসের গতিপথও বদলে দিতে পারেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যখন জশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নের মতো চার অভিজ্ঞ বোলার একসঙ্গে আক্রমণে, তখন মিরাজের এই ইনিংসের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৪২৬ রানের ভিত গড়ার পথে তার ৬৫ রান এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দায়িত্ব নেয়ার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছিল। মিরাজ নিজেও জানিয়েছেন, মুশফিকুর রহীম আউট হওয়ার সময় তার রান ছিল মাত্র ২। এরপর বোলারদের সাথে নিয়েই রান করতে হয়েছে। কঠিন সেই পরিস্থিতিকে সামলে ৬৫ পর্যন্ত পৌঁছানোই বলে দেয়, এই ইনিংসের গুরুত্ব কতটা।

একসময় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দলই মূল টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার চারজন ৩০০-প্লাস উইকেটধারী বোলারের সামনে ৪২৬ রান করেছে। সেই রূপান্তরের গল্পে মিরাজের ৬৫ রানের জায়গাটা তাই আলাদা। রেকর্ডটি হয়তো ব্যক্তিগত, কিন্তু এর প্রভাব পুরো দলের ওপর।

মিরাজের জন্য এটি আরেকটি মাইলফলক-২১৯ উইকেট ও ২ হাজার ২৯৬ রান নিয়ে তিনি এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটে শুধু একজন অলরাউন্ডার নন, বরং এমন এক রেকর্ড-গড়ার পথে হাঁটা ক্রিকেটার, যার নাম বিশ্ব ক্রিকেটের বিরল অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও উচ্চারিত হচ্ছে!

জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘ভবিষ্যতের কথা তো আসলে আমরা বলতে পারি না, কিন্তু আমরা চেষ্টা করতে পারি যে আগামীকাল (আজ) প্রথম সেশনটা অতীব জরুরি এবং এই সেশনটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি উইকেট নিতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য ভালো এবং সহজ হবে। যদি দুই সেশন যায় তাহলে তিনটি উইকেট নেয়া জরুরি।’

অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথকে ৪৪ রানে আউট করার পর অনুভূতি, ‘সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান এবং একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। তার উইকেট নিতে পারাটা আমার জন্য দারুণ একটি মুহূর্ত। আমি শুধু এটিই ভাবছিলাম যে, সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড় এবং ভালো খেলছে, তাই কীভাবে তাকে আউট করা যায়।’

দ্বিতীয় দিনে মিরাজ ও মিচেল স্টার্কের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ে তৈরি হয়েছিল আলোচনা। তবে এক দিন পরই সেই ঘটনার ইতি টেনেছেন দু’জন। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে মিরাজ জানান, সকালে মাঠে নামার আগে তার সাথে কথা বলে গতকালের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার।