জেলায় জেলায় মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

Printed Edition
জেলায় জেলায় মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
জেলায় জেলায় মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে একুশের প্রথম প্রহরেই সারা দেশে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয়েছে মানুষ। রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। খালি পায়ে ফুল হাতে নানা বয়সী মানুষ শহীদ মিনারে এসে ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারই ছিল এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। আলোচনা সভায় বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দোয়া ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ তমিজ উদ্দিনসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দারুল ফোরকান ট্রাস্ট মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমির মাস্টার আবুল হোসাইন। প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক জেলা আমির ডা: আব্দুর রহিম সরকার। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৫২ সালের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এ দেশে স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এসেছে মুক্তিযুদ্ধসহ পরবর্তী গণ-আন্দোলন। সভায় স্থানীয় নেতারা ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একুশের কর্মসূচি শুরু হয়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদ, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া ও পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদাসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা জানান। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল, যুবদল, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভার মডেল কলেজে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ তৌহিদ হোসেন। শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয় এবং মাতৃভাষা চর্চায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও ভাষাসৈনিকদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। বাদ জোহর ভাষাশহীদদের রূহের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশেও প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা কবিতা পাঠ ও একুশের গান পরিবেশন করেন।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রথম প্রহরে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ভাষাশহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষে দলীয় নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। দিনভর ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মকবুল হোসেন। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ভাষা শহীদদের স্মরণে দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ, ওসি ইয়াকুব হোসাইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণ কান্তি, শিক্ষা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। শেষে চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়।

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে ভাষাশহীদদের স্মরণ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত শ্রদ্ধা জানান। এ সময় প্রশাসন, পুলিশ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, ফায়ার সার্ভিস, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা জানান, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে প্রথমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এক মিনিট নীরবতা ও মুনাজাতের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয়। দিনব্যাপী চিত্রাঙ্কন, রচনা ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, তালায় রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। সকালে প্রভাতফেরি শেষে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ। প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, প্রেস ক্লাব ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সকালে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো: আলাউল ইসলাম। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা ধারণের আহ্বান জানান। শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়।

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, মোহনগঞ্জে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতারা। পরে উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় ভাষাসৈনিকদের স্মরণ করে বক্তব্য দেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান জানানো হয়।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, রামগতিতে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপার সভাপতিত্বে সভায় কৃষি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য দেন। এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়।

সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধা জানায়। সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামানিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই প্রথমে রাষ্ট্রের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান। পরে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, থানা, বিভিন্ন দফতর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিএনপির নেতারা শহীদ মিনারে ফুল দেন। খালি পায়ে অনেকেই নীরবে শ্রদ্ধা জানান। সকালে উপজেলা হলরুমে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউয়েট) ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম লুৎফর রহমানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা জানান। পরে আলোচনা সভায় ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন বেগমের নেতৃত্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে পৌর প্রশাসন, বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠন ফুল দেয়। এক মিনিট নীরবতা পালন ও মুনাজাত করা হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউএনও মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম। বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ভাঙ্গায় রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবু জাহের প্রথমে শ্রদ্ধা জানান। পরে মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসন, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা ফুল দেন। এক মিনিট নীরবতা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বক্তারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান।

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সাটুরিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে প্রশাসন শ্রদ্ধা জানায়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, থানা, বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠন ফুল দেয়। প্রথম প্রহরের কর্মসূচি শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন প্রথমে শ্রদ্ধা জানান। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দেন। এক মিনিট নীরবতা ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার আহ্বান জানান।

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, গৌরনদীতে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইব্রাহীম প্রথমে শ্রদ্ধা জানান। পরে পৌরসভা, বিএনপি, থানা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন সংগঠন ফুল দেয়। শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণের আহ্বান জানানো হয়।

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর প্রথমে শ্রদ্ধা জানান। পরে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন ফুল দেয়। এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিনব্যাপী আলোচনা, দোয়া ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামসহ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শ্রদ্ধা জানান। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দেয়। শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।